১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে আর কেউ স্বৈরাচার হতে পারবে না : মুজিবুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে আর কেউ স্বৈরাচার হতে পারবে না। 

শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীল শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, যাদের নতুন করে স্বৈরাচার হওয়ার খায়েশ জেগেছে তারা গণভোটের রায় মেনে নিতে পারছে না। এদেশের ছাত্র-জনতা নতুন বাংলাদেশে কোনোভাবেই আর কাউকে স্বৈরাচার হয়ে উঠতে দেবে না। গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনগণ রাজপথে নামলে কারো জন্যই শুভ হবে না।

সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, অতীত ভুলে গেলে চলবে না। জনগণের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো সরকারই টিকতে পারেনি, পারবে না।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ওপর যেই টর্নেডো গেছে সেই টর্নেডো মোকাবিলা করে জনগণের হৃদয়ে আজ জামায়াতে ইসলামী স্থান করে নিয়েছে। এই জন্য জামায়াতে ইসলামীকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে জীবন দিতে হয়েছে। অসংখ্য নেতাকর্মী খুন,গুম, হামলা-মামলা, জেল-জুলম, নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বিরাট সাক্ষী যারা জামায়াতে ইসলামীকে নির্মূল করতে চেয়েছে তারাই নির্মূল হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় বসানোর আশা করে জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিয়েছে কিন্তু ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের ভোট জালিয়াতি করা হয়েছে। এই জালিয়াতি আগামীতেও হতে পারে। তবে জালিয়াতিকারীরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করে বারবার জাতিকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করবে। এজন্য সর্বস্তরের জনশক্তিকে সজাগ থাকতে হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জাতীয় নির্বাচনে জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছে। কিন্তু জনগণের ভোট কারচুপি করা হয়েছে। এই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও হতে পারে।

সংগঠনের সর্বস্তরের জনশক্তিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং সমাজের সকল পেশাজীবী ও মেহনতি লোকজনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে। জামায়াতে ইসলামী একটি মানবিক ও আদর্শিক সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর সব স্তরের নেতাকর্মীদের মানবিক ও আদর্শিক ভূমিকা পালন করতে হবে। দলমত, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে ব্যাপক ভিত্তিক সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। জনগণের কল্যাণে নিজেদেরকে নিয়োজিত করতে হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা আবদুস সালাম প্রমুখ।

 

সর্বশেষ