বলিউডে তারকা-সন্তানদের অভিষেক নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চিরন্তন। তবে আমির-পুত্র জুনাইদ খানের যাত্রাপথ যেন প্রচলিত ধারণার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার, অভিষেক চলচ্চিত্রের ব্যর্থতা এবং সুপারস্টার বাবার ছায়ায় থাকার চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্ফোরক ও সোজাসাপ্টা মন্তব্য করেছেন এই তরুণ অভিনেতা। তাঁর এই অকপট স্বীকারোক্তি এখন বি-টাউনের টক অব দ্য টাউন।
’এক দিন’-এর ব্যর্থতা ও বক্স অফিসের বাস্তবতা
দক্ষিণ ভারতীয় সেনসেশন সাই পল্লবীর বিপরীতে ‘এক দিন’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রেখেছিলেন জুনাইদ। বড় প্রত্যাশা থাকলেও ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। ছবির ব্যর্থতা নিয়ে কোনো অজুহাত না দিয়ে জুনাইদ সরাসরি বলেন:
”আমি ব্যক্তিগতভাবে ছবিটি পছন্দ করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ দর্শক এটি গ্রহণ করেননি। বলিউডে এমনটা হতেই পারে।”
হতাশা থাকলেও দর্শকের রায়কেই চূড়ান্ত বলে মেনে নিয়েছেন আমির-পুত্র।
বাবার আবেগ বনাম ক্যারিয়ারের গতি
সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ ছিল ছবিটির প্রযোজনা নিয়ে জুনাইদের মন্তব্য। প্রথমে অন্য পরিচালকের অধীনে দ্রুত শুটিং শুরুর কথা থাকলেও, আমির খান স্ক্রিপ্ট শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং নিজেই ছবিটি প্রযোজনা করার সিদ্ধান্ত নেন।
ছেলের জন্য সিনেমা বানানোর এই ‘বাবার আবেগ’ জুনাইদের জন্য কিছুটা বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুনাইদ রসিকতার ছলে বড় এক সত্য সামনে এনেছেন:
আমিরের পারফেকশনিজম: আমির খান একটি ছবি শেষ করতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় নেয়।
জুনাইদের বাস্তবতা: ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকা অভিনেতার নিয়মিত কাজ ও স্ক্রিন প্রেজেন্স দরকার।
জুনাইদের ভাষায়, “বাবা কয়েক বছরে একটি ছবি করতে পারেন, কিন্তু আমার তো এখনই নিয়মিত কাজ প্রয়োজন।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে বলিউডের দুই প্রজন্মের কর্মপদ্ধতির পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সাই পল্লবী বিতর্ক: জুনাইদের সাফাই
ছবিটি ঘিরে অন্যতম বিতর্ক ছিল অভিনেত্রী সাই পল্লবীর একটি মন্তব্য। গুঞ্জন রটেছিল, সাই এই ছবিতে কাজ করাকে ভুল সিদ্ধান্ত মনে করছেন। তবে সহ-অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে জুনাইদ জানান, সাই পল্লবীর বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাই একজন অত্যন্ত খুঁতখুঁতে শিল্পী এবং নিজের কাজ নিয়ে তিনি সব সময় সন্দিহান থাকেন। পুরো টিমের মতে সাই দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন এবং ছবিটির ব্যর্থতার জন্য জুনাইদ কাউকে দায়ী করতে নারাজ।
বলিউডে আমিরের নাম অনেক দরজা খুলে দিলেও, জুনাইদ বুঝতে পারছেন বাবার বিশাল ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করা কতটা কঠিন। বাবার ‘ধীরে চলো’ নীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে জুনাইদ এখন নিয়মিত কাজের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের পরিচয় গড়তে মরিয়া।