যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলি বাহিনী আবারও হামলা চালালে নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুতকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান, যা একটি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় স্তরের সমান।
মঙ্গলবার ইরানের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আরেকটি হামলার ঘটনায় ইরানের অন্যতম একটি বিকল্প হতে পারে ৯০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ।’
তেহরানের পক্ষ থেকে এই হুমকি এমন এক সময়ে এসেছে যখন দেশটির সঙ্গে আলোচনা অচলাবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন।
ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বারবার বলেছেন, তেহরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অস্ত্র মজুদের ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং কোনো হুমকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ওই ধরনের স্থাপনার কাছাকাছি কেউ গেলে ওয়াশিংটন তা শনাক্ত করতে পারবে এবং প্রয়োজন হলে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে।
উল্লেখ্য, ইরান ২০০৬ সালে শিল্প পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করে এবং দাবি করে আসছে, এর উদ্দেশ্য সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ। পরে ২০১০ সালে দেশটি ঘোষণা দেয় যে, জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যে তারা ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করবে।
তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৪৪০.৯ কিলোগ্রাম (৯৭২ পাউন্ড) ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি স্তর, কারণ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতার খুব কাছাকাছি এটি।
আইএইএ আরও বলেছে, ৬০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় পৌঁছানো তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও সহজ, যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্বেগ বাড়ছে।
এর আগে ২০২১ সালের জুন মাসে ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি স্বীকার করেছিলেন যে, প্রয়োজন হলে তেহরান ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে সক্ষম।
সূত্র: এনডিটিভি