দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো কোনো টেস্ট ম্যাচে পাকিস্তানকে হারানোর গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সফরকারীদের ১০৪ রানে পরাজিত করে নাজমুল হোসেন শান্তর দল গড়ল নতুন ইতিহাস। এই জয়ের মাধ্যমে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয় পেতে বাংলাদেশের অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ২৩ বছর। এই সময়ে টানা ১১টি ম্যাচে জয়হীন ছিল টাইগাররা। অবশেষে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে প্রথম জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ। ওই সিরিজে ২–০ ব্যবধানে জয় এসেছিল। এবার দেশের মাটিতেও ইতিহাস গড়ল শান্তর দল।
২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার ইমাম-উল হক। তিনি ৫ বলে ২ রান করেন। অন্য ওপেনার আজান আওয়াইস ৩৩ বলে ১৫ রান করে আউট হন। অধিনায়ক শান মাসুদ করেন মাত্র ২ রান।
৬৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। তবে চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে দলকে সামাল দেন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা। এই জুটিতে আসে ৫১ রান। ফিফটি করা ফজলকে এলবিডব্লিউ করেন তাইজুল ইসলাম। তিনি ১১৩ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৬৬ রান করেন। পরের ওভারেই সালমান আগাকে আউট করেন তাসকিন আহমেদ। সালমান করেন ৩৯ বলে ২৬ রান।
পাঁচ উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে সফরকারীরা। ষষ্ঠ উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌদ শাকিল। তবে নাহিদ রানার আক্রমণে ভেঙে যায় সেই জুটি। টানা দুই ওভারে শাকিল ও রিজওয়ান আউট হন, দুজনই করেন ১৫ করে রান।
এরপর ১ রান করে হাসান আলিকে এলবিডব্লিউ করেন তাইজুল ইসলাম। পরে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নাহিদ রানা। তিনি শেষ দুই উইকেট তুলে নিয়ে ইনিংসে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন। মাত্র ৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি দলের জয়ের অন্যতম নায়ক হন।
এর আগে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৭ রানের ইনিংস খেলেন। মুশফিকুর রহিম ২২, লিটন দাস ১১, মেহেদী হাসান মিরাজ ২৪, তাইজুল ইসলাম ৩ ও তাসকিন আহমেদ ১১ রান করেন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন। প্রথম ইনিংসে মাহমুদুল হাসান জয় ৫, সাদমান ইসলাম ১০ ও মুমিনুল হক ৫৬ রান করেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। প্রথম ইনিংসে পাওয়া ২৭ রানের লিড মিলিয়ে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৩ রান সংগ্রহ করে, যেখানে শান্ত সেঞ্চুরি করেন এবং মুমিনুল-মুশফিক ফিফটি তুলে নেন। জবাবে পাকিস্তান ৩৮৬ রান করে, যেখানে আজান আওয়াইস সেঞ্চুরি করেন।
শেষ পর্যন্ত দুই ইনিংসে দারুণ বোলিং ও দলীয় পারফরম্যান্সে ভর করে বাংলাদেশ ১০৪ রানের বড় জয় তুলে নেয় এবং সিরিজে এগিয়ে যায়।