অপুষ্টি, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং তাবু জীবনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাড়ছে নবজাতক ও প্রসূতিদের মৃত্যুঝুঁকি।
গাজা সিটি: অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। এই চরম প্রতিকূলতার মধ্যেই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সিজারিয়ান বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের হার। চিকিৎসকরা বলছেন, একদিকে যুদ্ধের ট্রমা ও অপুষ্টি, অন্যদিকে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে স্বাভাবিক প্রসবের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে অস্ত্রোপচারের পর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে গিয়ে ইনফেকশন বা সংক্রমণের নতুন সংকটে পড়ছেন ফিলিস্তিনি মায়েরা।
অপুষ্টি ও রক্তশূন্যতার অভিশাপ
২৪ বছর বয়সী দুহা আবু ইউসুফ। প্রথম সন্তানের মা হতে যাওয়া এই নারী স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাভাবিক প্রসবে সুস্থ শিশুর। কিন্তু গাজার দুর্ভিক্ষাবস্থা তার শরীরকে এতটাই দুর্বল করে দিয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত জরুরি সিজারিয়ান করাতে হয়।
গণমাধ্যমকে দুহা জানান, “পুরো গর্ভাবস্থায় আমি মাছ, মাংস বা ডিমের স্বাদ পাইনি। আয়রন সাপ্লিমেন্টও ছিল অমিল।” চিকিৎসকদের মতে, তীব্র রক্তশূন্যতার কারণে গাজায় বর্তমানে প্রসূতিদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
কেন বাড়ছে সিজারিয়ান?
গাজার আল-হেলো ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের প্রধান ড. ফাতি আল-দাহদুহ জানান, যুদ্ধের আগে গাজায় সিজারের হার যা ছিল, বর্তমানে তা প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে। মোট প্রসবের চারভাগের একভাগই এখন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হচ্ছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
যাতায়াত বাধা: চেকপোস্ট ও হামলার কারণে মায়েরা হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি করছেন, যার ফলে স্বাভাবিক প্রসব অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
সরঞ্জামের অভাব: ভ্রূণের হার্টবিট মাপার যন্ত্র (Fetal Monitor) এবং প্রসব বেদনা শুরুর ওষুধের সংকট।
আহত প্রসূতি: বোমা হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে আসা গর্ভবতী নারীদের জীবন বাঁচাতে দ্রুত অস্ত্রোপচার ছাড়া উপায় থাকছে না।
অধিক বয়সে গর্ভধারণ: যুদ্ধে সন্তান হারানো মায়েরা ৪০ বছর বয়সেও নতুন করে সন্তান নিতে চাইছেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সিজারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
তাবু জীবনে সংক্রমণের আতঙ্ক
অস্ত্রোপচারের চেয়েও বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে অপারেশন পরবর্তী সময়। ৩৫ বছর বয়সী সানা আল-শুকরি সিজারের ১০ দিন পর আবারও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কারণ, তাবুর ভেতরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তার সেলাইয়ের স্থানে সংক্রমণ তৈরী হচ্ছে।