২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জাকার্তায় মানবাধিকার কর্মীর ওপর অ্যাসিড হামলা: ৪ সেনাসদস্যের বিচার শুরু

ইন্দোনেশিয়ায় এক মানবাধিকার কর্মীর ওপর ভয়াবহ অ্যাসিড হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত চার সেনাসদস্যের বিচার শুরু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাকার্তার একটি সামরিক আদালতে এই চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন সামরিক কৌঁসুলিরা।

​আক্রান্ত অ্যাক্টিভিস্ট আন্দ্রে ইউনুস দেশটির সরকার ও প্রশাসনে সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।

​আদালতে পেশ করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত চার সেনাসদস্য হলেন— এডি সুদার্কো, বুদি হারিয়ান্তো উইধি কাহিয়ানো, নান্দালা দ্বি প্রাসেটিয়া এবং সামি লাক্কা। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির আওতায় ‘পরিকল্পিত ও গুরুতর হামলার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে এই সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

​এদিন অভিযুক্তরা সামরিক পোশাক পরেই আদালতে হাজির হন। তাদের পক্ষে নিযুক্ত সামরিক আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এই অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি তুলবেন না, যার ফলে বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হওয়ার পথ সুগম হলো।

​গত ১২ মার্চ রাজধানীর জাকার্তায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হন ২৭ বছর বয়সী আন্দ্রে ইউনুস। তিনি মানবাধিকার সংস্থা ‘কমিশন ফর মিসিং পারসনস অ্যান্ড ভিকটিমস অব ভায়োলেন্স’ (KontraS)-এর ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি আন্দ্রের ওপর সরাসরি অ্যাসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় তার শরীরের প্রায় ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়।

​আন্দ্রের ওপর এই কাপুরুষোচিত হামলার প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। গত ২৭ এপ্রিল জাকার্তায় ‘আন্দ্রের জন্য নাগরিক সমাজ’ শিরোনামে একটি দেয়ালচিত্র (ম্যুরাল) প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

​উল্লেখ্য, বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনীর সাথে বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলেও অভ্যন্তরে নাগরিক অধিকার কর্মীদের ওপর এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

সর্বশেষ