সংবাদ সম্মেলনের দিন শেষ? সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকাদের একচ্ছত্র রাজত্ব
বিনোদনজগতে তারকাদের প্রচার কৌশলে এক নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে। গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতাকেই এখন বক্তব্যের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছেন চিত্রতারকারা। ফলে প্রথাগত বিনোদন সাংবাদিকতার সামনে তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব কৌশলগত চ্যালেঞ্জ।
সাম্প্রতিক সময়ে শাকিব খান, সিয়াম আহমেদ, মেহজাবীন চৌধুরী, তানজিন তিশা ও বিদ্যা সিনহা মিমের মতো প্রথম সারির শিল্পীদের কর্মকাণ্ড নজর কাড়ছে। কাজের খবর দেওয়া থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত বিতর্ক বা আইনি জটিলতায় তারা সরাসরি নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন ফেসবুক হ্যান্ডেলে। ২০২১ সালের বহুল আলোচিত একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে পরীমনি সম্প্রতি একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন, যা গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। একই কথা প্রযোজ্য মেহজাবীন বা তানজিন তিশার ক্ষেত্রেও—আইনি বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য তারা কোনো সাক্ষাৎকারে না দিয়ে নিজের পেজেই প্রকাশ করেন, যা পরবর্তীতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, নিজের ভাবমূর্তি ও বার্তার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতেই তারকাদের এই পথ বেছে নেওয়া। সরাসরি কোনো সাংবাদিকের উত্তর দেওয়া বা সম্পাদনার পর খণ্ডিত তথ্য প্রকাশের ঝুঁকিতে না গিয়ে তারা নিজেদের সুবিধাজনক সময়ে বক্তব্য প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। তাছাড়া একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টের মাধ্যমেই কয়েক মিনিটের ব্যবধানে লাখ লাখ ভক্তের কাছে সরাসরি পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
তবে বিনোদন বিশ্লেষকদের মতে, তারকাদের এই ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ’ হওয়ার প্রবণতা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মূল ভিত্তিকে হুমকির মুখে ফেলছে। তারকাদের দেওয়া স্ট্যাটাস কেবল তাদের নিজস্ব একপাক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের কাজ শুধু সেই বার্তা হুবহু তুলে ধরা নয়, বরং এর পেছনের সত্যতা যাচাই করা, প্রতিপক্ষের মতামত নেওয়া এবং নথিপত্র ঘেঁটে নিরপেক্ষ চিত্র পাঠকের সামনে আনা।
প্রবীণ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে অবাধ তথ্যের সুযোগ থাকলেও এতে কোনো ‘সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রণ’ নেই। ফলে কোনো তারকার ফেসবুক স্ট্যাটাস একটি খবরের প্রাথমিক সূত্র হতে পারে, কিন্তু কখনোই সেটি চূড়ান্ত বা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হতে পারে না।
সব মিলিয়ে, তারকা ও গণমাধ্যমের এই পরিবর্তিত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিনোদন সাংবাদিকতায় এখন মূল সূত্র হয়ে উঠছে সামাজিক মাধ্যম, আর মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই তথ্যের গভীর অনুসন্ধান।