বিএনপি জুলাই সনদ নিজেদের মতো করে বাস্তবায়ন করতে চায়: গোলাম পরওয়ার

May 11, 2026 • Times Asian24
prothomalo bangla 2026 05 10 7xoitj17 Golam Parwar
Share: Facebook X WhatsApp

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সাংবিধানিক সংস্কার–সংক্রান্ত যেসব প্রস্তাবে বিএনপি ভিন্নমত দিয়েছিল, গণভোটে জনগণ সেসব মত খারিজ করে দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি ‘জুলাই সনদের স্পিরিট’ অনুযায়ী নয়, নিজেদের মতো করে তা বাস্তবায়ন করতে চায়।

গতকাল রোববার চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘১১–দলীয় ঐক্যের গণভোটের রায়: জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন নগর জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ নুরুল আমিন। প্রধান অতিথি ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জুলাই সনদ ‘অক্ষরে অক্ষরে’ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তবে তাঁরা গণভোটের রায় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বলছেন না কেন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জুলাই সনদের সাংবিধানিক সংস্কার–সংক্রান্ত ৮ থেকে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত দিয়েছে। তাঁর দাবি, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সেসব ভিন্নমত প্রত্যাখ্যান করেছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিএনপি যেসব বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছে, সেগুলোই ‘স্বৈরাচার উৎপাদনের হাতিয়ার’। গণভোটে জনগণ সরাসরি রায় দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে গণভোটের রায়কে সর্বোচ্চ জনমতের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, সরকারদলীয় নেতাদের সংবিধান, সাংবিধানিক আইন ও রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ে আরও বেশি পড়াশোনা প্রয়োজন। রাষ্ট্র পরিচালনা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ক্ষমতার প্রশ্নে তাঁদের ‘গভীর বোঝাপড়ার ঘাটতি’ রয়েছে।

মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থান নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংকট তৈরি হতে পারে। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণভোট জনগণের সার্বভৌমত্বের বাস্তব প্রয়োগ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।প্রধান অতিথির বক্তব্যে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে চাটুকারদের বেষ্টনী থেকে বের হয়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। তিনি বলেন, ‘ইচ্ছা করলেই ক্ষমতায় থাকা যায় না। ক্ষমতায় থাকতে হলে নীতি-নৈতিকতা ও জনগণের সমর্থন প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা জহিরুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম নগরের সভাপতি এমদাদ উল্লাহ, এনসিপি চট্টগ্রাম নগরের যুগ্ম সমন্বয়ক মীর শোয়াইব ও আরিফ মঈনউদ্দীন, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম উত্তর জেলার নায়েবে আমির শিহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম চট্টগ্রাম নগরের আমির মাওলানা জিয়াউল হোসাইন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নগর সভাপতি আবু মোজাফফর মুহাম্মদ আনাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *