যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা, দোহা ছাড়লেন ইরানি প্রতিনিধিরা

November 2, 2026 • Imran Hossain
iran 20261102161840
Share: Facebook X WhatsApp

যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা, দোহা ছাড়লেন ইরানি প্রতিনিধিরা

সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া নিয়ে পর্যালোচনা চলছে, ফের বৈঠকের সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে দোহা ছেড়েছেন ইরানের প্রতিনিধিরা। তবে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আবারও বৈঠক হতে পারে। সোমবার বৈঠক সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার ইরানি প্রতিনিধিরা দোহা ত্যাগ করেন। তবে আলোচনায় কোনো জটিলতা বা অচলাবস্থার কারণে তাঁরা দোহা ছাড়েননি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। যদিও প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের লক্ষ্যে তেহরানের প্রণীত সাত দফা পরিকল্পনা নিয়ে এ আলোচনা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে তৈরি করা ওই পরিকল্পনা সমঝোতা চুক্তির আওতায় আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।

বাঘাই বলেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান সহজ করতে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দোহায় অবস্থান করছিলেন।

ইরানের দাবির বিষয়ে বাঘাই বলেন, তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট ও স্বচ্ছ। মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের দাবিগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং দেশটির ন্যায্য প্রয়োজন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে না। এসব শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া বা নিরাপদ করার বিষয়টিও সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

এর আগে শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছিলেন, চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সাত দিনের যে পরিকল্পনা ছিল, তা কমিয়ে দুই দিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

এদিকে ইরানের প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আবারও বাড়তে পারে—এমন উদ্বেগের মধ্যেই সর্বশেষ এই কূটনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তন আসবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইরানের মুখপাত্র বাঘাই বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কোনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম হবে বলে তেহরান মনে করে না।

অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *