আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে জোড়া ভূমিকম্প: লণ্ডভণ্ড শতাধিক ঘরবাড়ি, আহত ২০
একই দিনে পর পর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। এতে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ধসে পড়েছে শতাধিক বাড়িঘর। গতকাল শনিবার (২৭ জুন) এই জোড়া ভূমিকম্পে দুই দেশের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইউরোপীয়-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পার্বত্য অঞ্চলে আঘাত হানা প্রধান ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ০। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তিস্থল ছিল। শক্তিশালী এই কম্পনে আফগান রাজধানী কাবুলসহ পার্শ্ববর্তী পাকিস্তানের বিশাল এলাকা কেঁপে ওঠে।
এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
পাকিস্তানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, জারি জরুরি অবস্থা
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের মুসাখাইল জেলায়। জেলা ডেপুটি কমিশনার আবদুল রাজ্জাক খাজাক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ধসে পড়া ঘরবাড়ির নিচে চাপা পড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) জানিয়েছে:
- অঞ্চলটিতে অন্তত ১২৫টি বাড়িঘর সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে তাঁবু, জরুরি খাদ্যসামগ্রী, সোলার প্যানেল এবং কম্বলসহ ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।
রাস্তায় নেমে আসেন আতঙ্কিত মানুষ
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত জেলার বাসিন্দা দানিয়াল আহমদ জানান, ভূমিকম্পের সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সবাই ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। তিনি বলেন, “সোয়াতে কম্পনটি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল এবং বেশ দীর্ঘ সময় ধরে এটি স্থায়ী হয়েছিল।”
এদিকে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে গভীর দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের সহায়তার পাশাপাশি উদ্ধারকাজ জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জরুরি নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।