মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধ উত্তেজনা: ইরানে মার্কিন হামলা, কুয়েত-বাহরাইনে ইরানি ড্রোন-মিসাইল আঘাত

June 28, 2026 Times Asian24
54b296c0 72a0 11f1 b1db af71d47507d6.jpg
Share: Facebook X WhatsApp

মধ্যপ্রাচ্যে ফের বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জের ধরে ইরানে নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান।

​আজ রবিবার (২৮ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাতে এ খবর জানা গেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি: চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ইরান

​মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের ‘অব্যাহত আগ্রাসনের’ জবাবেই তারা এই সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

​সেন্টকমের দাবি, শনিবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় পানামার পতাকাবাহী ‘এমটি কিকু’ নামের একটি তেল ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। এর মাধ্যমে তেহরান দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।

​জবাব হিসেবে মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের বেশ কয়েকটি সামরিক সরঞ্জাম কেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স) এবং ড্রোন সংরক্ষণাগার গুঁড়িয়ে দেয়।

ইরানের পাল্টা আঘাত ও হুঁশিয়ারি

​মার্কিন হামলার পরপরই পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এক রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে সফল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

​আইআরজিসির দাবি, একটি ‘অপরাধী জাহাজে’র বিরুদ্ধে তাদের নৌবাহিনীর নিয়মিত অভিযানের অজুহাত তুলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় পাঁচটি ঘাঁটিতে কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে।

​বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়:

​”চলতি মাসের শুরুতে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌপথ নিয়ন্ত্রণের আইনি দায়িত্ব ইরানের। যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে, যার ফলে শান্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। এখন থেকে নিয়ম ভঙ্গকারী যেকোনো জাহাজের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

উদ্বেগে বিশ্ব সম্প্রদায়

​বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালীতে দুই পরাশক্তির এমন মুখোমুখি অবস্থান এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তেলের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক মহল থেকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *