ভাগ্যের ছোঁয়া আর্জেন্টিনায়, ব্রাজিলের সামনে কোয়ার্টার ফাইনালেই ‘ইংল্যান্ড’ আতঙ্ক
চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের রোমাঞ্চ শেষে এবার শুরু হচ্ছে নকআউট পর্বের আসল মহোৎসব। তবে শেষ ৩২-এর ভাগ্য নির্ধারণী সমীকরণ বলছে, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং রানার্স-আপ ফ্রান্স কিংবা ব্রাজিলের পথ সম্পূর্ণ ভিন্ন। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার ওপর যেন ভাগ্যের দেবী কিছুটা বেশিই সদয়, অন্যদিকে অন্য পরাশক্তিদের পাড়ি দিতে হবে কঠিন অগ্নিপরীক্ষা।
আর্জেন্টিনার ‘সহজ’ রোডম্যাপ
রাউন্ড অব ৩২-এ আলবিসেলেস্তেরা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের নবাগত দল কেপ ভার্দের। শক্তি ও অভিজ্ঞতায় এই ম্যাচে পরিষ্কার ফেভারিট আর্জেন্টিনা। এই বাধা পার হতে পারলে শেষ ১৬-তে তাদের খেলতে হবে অস্ট্রেলিয়া অথবা মিশরের বিপক্ষে।
এমনকি কোয়ার্টার ফাইনালেও কলম্বিয়ার চেয়ে বড় কোনো প্রতিপক্ষ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই আর্জেন্টিনার। সমীকরণ অনুযায়ী, সেমিফাইনালের আগে কোনো সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না মেসিদের। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে (সেমিফাইনালে) গিয়ে তারা পেতে পারে ব্রাজিল বা ইংল্যান্ডের মতো হেভিওয়েট প্রতিপক্ষকে।
ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালেই ‘ব্লকবাস্টার’ শঙ্কা
পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের জন্য এবারের নকআউট যাত্রাটি মোটেও মসৃণ হবে না। রাউন্ড অব ৩২-এ সেলেসাওদের লড়তে হবে এশিয়ার পরাশক্তি জাপানের বিরুদ্ধে। বর্তমান জাপানি দলটি দারুণ প্রতিভাবান হওয়ায় ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য সহজ হবে না।
জাপান-বধ করতে পারলে শেষ ১৬-তে নেইমার-ভিনিসিউসদের সামনে পড়তে পারে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে অথবা আফ্রিকান শক্তি আইভরি কোস্ট। আর ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড যদি নিজ নিজ ম্যাচ জিতে এগিয়ে যায়, তবে কোয়ার্টার ফাইনালেই দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম হাইভোল্টেজ ‘ব্রাজিল বনাম ইংল্যান্ড’ ব্লকবাস্টার ম্যাচ। এই ম্যাচের জয়ী দলই সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে পারে।
এক নজরে ইংল্যান্ডের পথ: থ্রি-লায়ন্সরা তাদের নকআউট পর্ব শুরু করবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিরুদ্ধে। এই ম্যাচে জিতলে শেষ ১৬-তে তারা খেলবে ইকুয়েডর ও স্বাগতিক মেক্সিকোর মধ্যকার জয়ী দলের বিপক্ষে।
ইউরোপীয় পরাশক্তিদের কণ্টকাকীর্ণ পথ
অন্যদিকে, ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেনের নকআউট যাত্রা শুরু থেকেই বেশ কঠিন। রাউন্ড অব ৩২-এ ফরাসিরা লড়বে সুইডেনের বিরুদ্ধে। এই বাধা পার হতে পারলে শেষ ১৬-তে তাদের সামনে পড়তে পারে জার্মানি (যদি তারা প্যারাগুয়েকে হারায়)। কোয়ার্টার ফাইনালে ফরাসিদের খেলতে হতে পারে নেদারল্যান্ডস অথবা মরক্কোর বিপক্ষে।
একই অবস্থা স্পেন ও পর্তুগালেরও। শেষ ৩২-এ স্পেন লড়বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়ার। দুই দলই যদি নিজ নিজ ম্যাচে জয়ী হয়, তবে শেষ ১৬-তেই ফুটবলবিশ্ব দেখতে পাবে ইবেরিয়ান পেনিনসুলার ঐতিহাসিক ‘স্পেন বনাম পর্তুগাল’ দ্বৈরথ।
নকআউট পর্বের এই জটিল সমীকরণ ও সম্ভাব্য হাইভোল্টেজ ম্যাচগুলো ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চের জন্ম দিতে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, কার ভাগ্যে জোটে বিশ্বজয়ের মুকুট, আর কার স্বপ্ন ভাঙে সামান্য ভুলে।