টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক শিশুকে হামের টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন প্রয়োগের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
একইসঙ্গে শিশুটির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারকে কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে বুধবার (১৩ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
আদালতে দায়ের হওয়া রিট আবেদনে বলা হয়, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৪ মাস বয়সি এক শিশুকে হামের টিকার পরিবর্তে ভুল করে দুই ডোজ জলাতঙ্কের র্যাবিক্স ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
শিশুটির পরিবার জানায়, স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম শিশুটিকে টিকা দেন। যদিও ওই টিকা প্রয়োগের দায়িত্বে ছিলেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম নুরু।
পরিবারের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদের নির্দেশে পিআরএলে থাকা কাইয়ুমকে ডেকে এনে টিকা প্রয়োগ করা হয়।
শিশুর স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, ভুল টিকা প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে হাসপাতালের কিছু স্বাস্থ্যকর্মী তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এতে হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক অভিভাবক শিশুদের টিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
রিটকারীদের আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, আদালত শিশুটির চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও রুল জারি করা হয়েছে।
সম্প্রতি দেশে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় অনেক অভিভাবক শিশুদের টিকা দিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভিড় করছেন। এর মধ্যেই এমন ঘটনায় স্বাস্থ্যসেবার মান ও তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পুরো ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।