পারস্য উপসাগরের রণক্ষেত্রে পাল্টে গেল দৃশ্যপট। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ারকে হটিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় পরিচালিত এই বিধ্বংসী অভিযানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ‘মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
কেন এই পাল্টা হামলা?
আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, দুটি প্রধান কারণে এই অভিযান চালানো হয়:
১. যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: জাস্ক বন্দরের কাছে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার প্রতিবাদ।
২. নিষেধাজ্ঞা অমান্য: তেহরানের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলোর কৌশলগত জলপথে অনুপ্রবেশের চেষ্টা।
যৌথ অভিযানের ভয়াবহতা
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই অভিযানে ইরান তার অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়েছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে:
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র: জাহাজ বিধ্বংসী বিশেষ পাল্লার মিসাইল।
ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন: উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরকবাহী ড্রোনের ঝাঁক।
ইরানি কমান্ডারের দাবি, নিখুঁত নিশানায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ায় মার্কিন জাহাজগুলো ‘ভয়াবহ আগুনের’ মুখে পড়ে এবং জীবন বাঁচাতে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
মার্কিন ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ ও কড়া হুঁশিয়ারি
খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি এই ঘটনাকে মার্কিন ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝতে হবে, আমাদের পানিসীমায় যেকোনো আগ্রাসনের চূড়ান্ত ও দাঁতভাঙা জবাব দিতে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি
বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র জবাবে ইরানের এই পাল্টা আঘাত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাবকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল।