তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলে নতুন ইতিহাস গড়ল বিজেপি। রাজ্য বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একচ্ছত্র সমর্থন শুভেন্দুর পালে:
এদিন ২০৭ জন বিজেপি বিধায়কের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে অন্য কোনো নাম প্রস্তাব না আসায় অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নাম মনোনীত করা হয়। বৈঠক শেষে অমিত শাহ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে জানান, সর্বসম্মতিক্রমেই শুভেন্দুকে রাজ্যের নেতৃত্বের ব্যাটন দেওয়া হচ্ছে।
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে জোড়া ম্যাজিক:
শুভেন্দু অধিকারীর এই উত্তরণ যেন রূপকথার মতো। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর এবার তিনি খোদ তৃণমূল নেত্রীর খাসতালুক ‘ভবানীপুর’ আসনেও জয়ী হয়েছেন। ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে পরাস্ত করে তিনি প্রমাণ করেছেন, রাজ্যের মানুষের জনমত এখন গেরুয়া শিবিরের দিকেই।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
এক সময়ের তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড শুভেন্দু অধিকারী এখন বিজেপির তুরুপের তাস। তাঁর এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে জেলা স্তরের শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি এবং মমতার দীর্ঘদিনের দুর্গ ভেঙে দেওয়ার সক্ষমতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরের জয় শুভেন্দুকে দলের অন্দরেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে।
শপথের পথে:
দলীয় সূত্রে খবর, খুব দ্রুতই রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন শুভেন্দু অধিকারী। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই রাজভবনে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে। এর মাধ্যমেই শুরু হতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘অধিকারী’ যুগ।