সিঙ্গাপুরে স্কুল শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও বুলিং নিয়ন্ত্রণে নতুন এক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ডেসমন্ড লি জানিয়েছেন, বিশেষ কিছু গুরুতর পরিস্থিতিতে অবাধ্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শাস্তি হিসেবে সীমিতভাবে বেত ব্যবহারের অনুমতি থাকবে।
তিনি বলেন, সব ধরনের শাস্তির ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়। শুধুমাত্র যখন অন্য কোনো শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা কার্যকর না হয় এবং অপরাধ গুরুতর হয়, তখনই বেত ব্যবহার করা হবে। বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা চলাকালে তিনি এসব কথা জানান।
গত ১৫ এপ্রিল সিঙ্গাপুর সরকার স্কুলে বুলিং প্রতিরোধে নতুন কিছু উদ্যোগ ঘোষণা করেছিল। এরপর এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৭ সাল থেকে নতুন এই নিয়ম দেশের সব স্কুলে কার্যকর করা হবে। তবে এর জন্য কঠোর প্রটোকল থাকবে—প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া শাস্তি দেওয়া যাবে না এবং নির্দিষ্ট প্রশিক্ষিত শিক্ষকই এটি প্রয়োগ করতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, শাস্তির আগে শিক্ষার্থীর মানসিক পরিপক্বতা এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করা হবে, যাতে এটি শিক্ষার উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক হয়। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বাড়াতে এবং বুলিং কমাতে সাহায্য করবে।
তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলে শারীরিক শাস্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের শাস্তি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং এর কোনো ইতিবাচক ফল নেই।