১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচন যত বিলম্ব হবে তত শঙ্কা বাড়বে: মান্না

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আগে নির্বাচন কমিশন বলেছিল চলতি মাসের ৭/৮ তারিখের দিকে তফসিল ঘোষণা করা হবে। তারপর শোনা গেল ১১ তারিখ তফসিল ঘোষণা হবে। এখন পত্রিকায় নির্বাচন কমিশন বলছে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে কোন কথা বলবেন না, আমরা দেখছি। আমরা বলেছি রোজার আগে নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচন যত বিলম্ব হবে তত শঙ্কা বাড়বে। 

রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকালে কুড়িগ্রামে নাগরিক ঐক্যের জেলা কার্যালয় উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি। 

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জোটে বেগম খালেদা জিয়ার অসাধারণ অবদান ছিল। তিনি অনেক কষ্ট করেছেন, অনেক নির্যাতন সহ্য করেছেন। সবাই চাই তিনিও এই নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় থাকুক। তার স্বাস্থ্য বিষয়ে সবার মাঝে একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই কারণে নির্বাচনের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয় কি-না এটা আমাদের মনের মধ্যে আছে। তবে আমরা চাই তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং নির্বাচন সঠিক সময়ে হবে।

তিনি আরও বলেন, পনের বছরের লড়াইয়ে আমাদের সঙ্গে বিএনপিসহ অন্যান্য দল ছিল, তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কারও সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা গড়ে ওঠেনি। আমরা এককভাবে কিছু করতে চাই না।

এ সময় দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লা কায়সার, সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জেলা কমিটি আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসর প্রাপ্ত মেজর আব্দুস সালামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে জেলা শহরের কলেজমোড়ে স্বাধীনতার বিজয়স্তম্ভে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তিনি।

সর্বশেষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে কয়েক দফায় মেরে পুলিশের হাতে সোর্পদ করার অভিযোগ উঠেছে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর রাতে সেহরির সময় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আমি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহেরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারও খাচ্ছিল। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেছে। পাভেল বলেন, আমার দোষ থাকলে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হোক–আমি তাদের বলেছি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি। পাভেল আরও বলেন, তারা সেখান থেকে মেরে পরে পলাশীতে এনে আবার মারে। আবার সেখান থেকে আমাকে বাইকে করে ভিসি চত্বরে নিয়ে এসে কয়েকজন মিলে কিল-ঘুষি মারে। পরে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে শাহবাগ থানায় ফেলে দিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ আটক করে। তারা আমাকে ছাত্রলীগ বলে পেটায়। আমি কখনো কোন সংগঠনে ছিলাম না। আমার কোনো পদ নেই। মারার পর তারা মোবাইল, মানিব্যাগ ও বাইকের চাবি নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন পাভেল। তিনি যাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছেন, তাদের মধ্যে আছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবরার। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলামকে ফোন করলেও তারা ধরেননি। শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, আজকে সেহরির সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাকে (পাভেল) পুলিশের হাতে সোর্পদ করে। এখন সে আমাদের হেফাজতে আছে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ, এজন্য ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে আগে সুস্থ হোক, তারপর আমরা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের কাছে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমি এ ঘটনা জানার পর সেই ছেলেকে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট দিতে শাহবাগ থানাকে অনুরোধ করেছি। আমরা তার খোঁজ খবর রাখছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।