জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে এনসিপির, স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়ার প্রস্তুতি

November 2, 2026 • Imran Hossain
card 20261102171440
Share: Facebook X WhatsApp

জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে এনসিপির, স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়ার প্রস্তুতি

১১ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি, তবে সম্পর্কের অবনতির গুঞ্জন অস্বীকার দলটির

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক দূরত্ব বাড়ছে বলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জোটের বাইরে গিয়ে এককভাবে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী ঘোষণা, জোটের কর্মসূচিতে শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি এবং নিজস্ব সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগে এ আলোচনা আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

ঢাকা পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের বৈঠকে জোটের যৌথ কর্মসূচিতে দলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের অংশগ্রহণ না করাসহ বেশ কয়েকটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

দলটির একাধিক নেতার মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু নির্বাচনী কৌশল নয়, বরং নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা যাচাই এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিরও অংশ।

দলীয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পর্ষদের বৈঠকে ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জামায়াত ও বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কয়েকজন সদস্য।

সম্প্রতি ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চেও এনসিপির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে দুটি লংমার্চে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিলেও এবারের কর্মসূচিতে তাঁরা ছিলেন না। তবে লংমার্চের বিভিন্ন পর্যায়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, আবদুল হান্নান মাসউদ এবং যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজ অংশ নেন।

তবে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি কিংবা ১১ দলীয় জোট ছাড়ার গুঞ্জন অস্বীকার করেছেন এনসিপি নেতারা।

দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির কোনো আদর্শিক জোট নেই। নির্বাচনী ঐক্যের ভিত্তিতে ১১ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে। তাই জোটের কর্মসূচির পাশাপাশি এনসিপি নিজেদের কর্মসূচিও পালন করছে। এর উদ্দেশ্য সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করা।

তিনি আরও বলেন, দুই দলের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। প্রতিটি দলের নিজস্ব এজেন্ডা রয়েছে। কিছু বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতেই জোট গঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে একজনকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে পর্যায়ক্রমে ঘোষণা আসবে।

অন্যদিকে, জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের বক্তব্যেও দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের বিষয়টি সামনে এসেছে। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জামায়াতের ভূমিকার সমালোচনা করেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

এর জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা, বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান এবং সাবেক ছাত্র উপদেষ্টাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।

সাদ্দাম অভিযোগ করেন, ছাত্র উপদেষ্টারা রাষ্ট্র সংস্কারে ভূমিকা রাখার পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থ গুছিয়েছেন। তাঁর মতে, বিএনপি গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আন্তরিকতার পরিচয় দিচ্ছে না।

এদিকে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ঢাকা পোস্টকে বলেন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে এনসিপির বের হয়ে যাওয়ার গুঞ্জন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। জামায়াতের সঙ্গে দলটির সম্পর্কে কোনো ফাটল বা দূরত্ব তৈরি হয়নি। লংমার্চে এনসিপির দুজন সংসদ সদস্যসহ রাজনৈতিক পর্ষদের একাধিক সদস্য অংশ নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

মনিরা শারমিন আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিএনপির আন্তরিকতা নিয়ে তাঁদের প্রশ্ন রয়েছে। তবে সংসদের ভেতরে ঐক্য গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়টি এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণ এবং নিজস্ব কর্মসূচি জোরদারের মাধ্যমে এনসিপি নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তবে ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্পর্ক কোন দিকে যায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *