ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের আগুন, রাস্তায় ৪ লাখের বেশি মানুষ

October 25, 2026 • Imran Hossain
afp 20261024 d4bh767 v1 highres francesocialdemo
Share: Facebook X WhatsApp

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক বৈষম্য ও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভে নেমেছেন চার লাখের বেশি মানুষ। শনিবার (তারিখ উল্লেখ নেই) অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে রাজধানী প্যারিসেই অংশ নেন ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ। সন্ধ্যার দিকে কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। খবর আল জাজিরার।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার দেশজুড়ে ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিটির দাবি, বিক্ষোভকারীর প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ।

প্যারিসে ইতালির ফটক থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শহরের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের ভঁসেন ফটক পর্যন্ত যায়। শুরুতে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কালো পোশাক পরা কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রায় ৫০০ দাঙ্গাকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান।

বিক্ষোভের নির্ধারিত পথ শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন করে শহরের কেন্দ্রের পরিবর্তে প্রান্তিক এলাকায় নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। তাদের কয়েকজনের অভিযোগ, আন্দোলনের গতি কমানো ও বিক্ষোভ আড়াল করতেই সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিক্ষোভে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবেশকর্মী, নার্স ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল সামাজিক বৈষম্য কমানো, ধনীদের সম্পদের ওপর অসন্তোষ এবং প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর পদত্যাগ।

নিরাপত্তার কারণে প্যারিসের অন্তত ২৪টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। লুভর ও ওর্সে জাদুঘরসহ বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ ছিল। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আর্ট বাসেল প্যারিস তাদের সপ্তাহান্তের কর্মসূচি বাতিল করে।

গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে এবার আগের সপ্তাহের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শনিবার দিনের শুরুতে প্যারিসে তিন হাজারের বেশি ব্যক্তিকে তল্লাশি করে ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, দেশজুড়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছেছে।

মঁপেলিয়ে, রুয়াঁ ও নিসসহ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ছিল। মার্সেইয়ে কঠোর শর্তে শ্রমিক সংগঠনের মিছিলের অনুমতি দেওয়া হলেও সেখানে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। লিয়নে শহরের কেন্দ্রে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকার মধ্যেই প্রায় ১৫০ জনের একটি জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ।

এদিকে, শুক্রবার শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ। তিনি আরও শিক্ষক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ও বাছাইপ্রক্রিয়া ‘পারকুরসুপ’ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বাস্তব পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন, শিক্ষকসংকট ও উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ব্যবস্থাকে অন্যায্য আখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। পরে তা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক বৈষম্য ও সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর অসন্তোষের প্রতীকে পরিণত হয়। আন্দোলনকারীরা আগামী শনিবারও নতুন বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যদিকে, ফ্রান্সের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ বাড়ছে। সংবিধান অনুযায়ী, মাক্রোঁ টানা তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না এবং ২০২৭ সালে তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এদিকে, ন্যাশনাল র‍্যালির নেতা মেরিন লে পেনের দলের সম্মেলনে শনিবার বামপন্থী বিক্ষোভকারীরা ফ্যাসিবাদবিরোধী স্লোগান দেন। একই দিন জর্দান বারদেল্লা প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট পেয়ে দলের সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানায় দলটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *