বিপদ ও পরীক্ষায় মুমিনের মূল হাতিয়ার ধৈর্য ও সালাত: কোরআনের নির্দেশ ও শিক্ষা
জীবনচক্রে সংকট, অনিশ্চয়তা কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতি মানবজীবনের স্বাভাবিক অংশ। এসব কঠিন মুহূর্তে ঐশ্বরিক রহমত ও উত্তরণের পথ খুঁজে পেতে পবিত্র কোরআনে ধৈর্য ধারণ ও সালাত আদায়ের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, একজন বিশ্বাসীর আত্মিক শক্তি বৃদ্ধি এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য ও সাহায্য লাভের প্রধান মাধ্যমই হলো ধৈর্য এবং নিয়মিত নামাজ।
পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ৪৫ নম্বর আয়াতে নির্দেশ প্রদান করে বলা হয়েছে, “তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই এটি বিনয়ী ব্যক্তিরা ব্যতীত অন্যদের জন্য বেশ কঠিন।”
মুফাসসিরদের মতে, জীবনের যেকোনো কঠিন মোড়ে বান্দা যখন ধৈর্যের পরিচয় দেয়, তখন তা তার অন্তরে দৃঢ়তা জোগায়। অন্যদিকে মনোযোগের সাথে সালাত আদায় করলে আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস তৈরি হয় এবং মানুষের মন অশান্তি থেকে মুক্তি পায়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র সুন্নাহ থেকেও জানা যায়, তিনি যেকোনো গুরুতর সমস্যা বা জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে দ্রুত সালাতে দাঁড়িয়ে যেতেন।
সালাতে অবিচল থাকার তাগিদ দিয়ে সূরা ত্বহার ১৩২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “আপনার পরিবারকে সালাতের আদেশ দিন এবং এর ওপর অবিচল থাকুন। আমরা আপনার কাছে কোনো রিজিক চাই না; বরং আমরাই আপনাকে রিজিক দিয়ে থাকি। আর উত্তম পরিণাম কেবল তাকওয়ার জন্যই নির্ধারিত।”
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, মহানবী (সা.)-এর সাহাবিগণ জীবনের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে এই কোরআনি শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। বিশিষ্ট সাহাবি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) সফরকালে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়েই বাহন থেকে নেমে দু’রাকাত সালাত আদায় করে মহান আল্লাহর কাছে পানাহ চান। অনুরূপভাবে, হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) আশঙ্কাজনকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর স্ত্রী উম্মে কুলসুম (রা.) মসজিদে গিয়ে সালাত ও ধৈর্যের মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন।
ইসলামি গবেষকদের মতে, এ সকল ঘটনা ও কোরআনের আয়াত নির্দেশ করে যে—দুর্ভোগ, দুশ্চিন্তা কিংবা যেকোনো প্রতিকূলতায় তাড়াহুড়ো না করে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে অনুভূতির সংযোগ স্থাপন করাই একজন মুমিনের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য।