মিরপুর ১০ ঘুরে দেখলেন ডা. শফিকুর রহমান এমপি; উচ্ছেদের বদলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিকল্প ব্যবস্থার দাবি
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
আজ বুধবার বিকেল ৫টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত চলাচলের উপযোগী রাখা জরুরি। তবে ফুটপাত ও সড়কে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাদের জন্য উপযুক্ত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে সেখানে ব্যবসার সুযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, রাস্তা যানবাহন চলাচলের জন্য এবং ফুটপাত মানুষের হাঁটার জন্য। কিন্তু আমাদের সামাজিক শৃঙ্খলার অভাবে ফুটপাত ও রাস্তায় ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনাও ঘটছে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, গ্রাম থেকে রাজধানীতে এসে অনেক মানুষ জীবিকার তাগিদে ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাদের অনেককেই বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদা দিতে হয়। এ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে তাদের জন্য নির্ধারিত স্থানে ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
ঢাকা-১৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আরও বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, এই সমস্যার টেকসই ও সমন্বিত সমাধান করতে হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করে দিতে হবে। সেখানে তারা ব্যবসা করবেন, সিটি কর্পোরেশন যৌক্তিক হারে ট্যাক্স পাবে; কিন্তু কোনো ধরনের চাঁদাবাজি চলবে না।
মিরপুর এলাকায় সাম্প্রতিক বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দখলদারি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সবশেষে তিনি সবাইকে শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দখলদারি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, মানবিক ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মো. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।