৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সিজারিয়ানের আতঙ্কে আশীর্বাদ পটিয়ার ‘পাঁচুরিয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’

পটিয়া বর্তমান সময়ে প্রসবকালীন সেবায় যেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের আতঙ্ক জেঁকে বসেছে, সেখানে ব্যতিক্রমী এক আস্থার নাম হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পাঁচুরিয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র।বিনামূল্যে ‘নরমাল ডেলিভারি’ নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটি এখন সাধারণ মানুষের কাছে ভরসার শেষ ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।

​সেবার মান ও রোগীর সন্তুষ্টি

​সরেজমিনে গিয়ে এবং সেবাগ্রহীতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই কেন্দ্রের অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডাঃ প্রতিমা রানী ত্রিপুরা। রোগীদের ভাষ্যমতে, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মার্জিত ব্যবহার এবং আন্তরিকতা তাদের মুগ্ধ করে। পটিয়ার বাসিন্দা এক প্রসূতির স্বজন বলেন, “ডাক্তার দিদি নিজে আগ্রহ নিয়ে সব শোনেন। হাসপাতালের কর্মচারীরাও খুব ভালো ব্যবহার করেন। মনেই হয় না এটা সরকারি কোনো কেন্দ্র”

​উপচে পড়া ভিড় ও সার্বক্ষণিক সেবা

​কেন্দ্রটির সুনাম এখন আর শুধু পটিয়া উপজেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নিরাপদ নরমাল ডেলিভারির আশায় পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকেও প্রসূতি মায়েরা এখানে ছুটে আসছেন। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা প্রসবকালীন সেবা ও গর্ভবতী মায়েদের বিশেষ যত্ন নেওয়ায় এই কেন্দ্রটি স্থানীয়দের কাছে একটি ‘আশার প্রতীক’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​”আমরা নিরাপদ নরমাল ডেলিভারি নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রোগীরা যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সব কর্মচারীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”-ডাঃ প্রতিমা রানী ত্রিপুরা, মেডিকেল অফিসার, পাঁচুরিয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র।

​সাফল্যের মূল চাবিকাঠি

​সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সিজারিয়ানের বাণিজ্যিক প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করাই এই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য। দক্ষ জনবল এবং উন্নত সেবার মানসিকতা থাকলে সরকারি পর্যায়েও যে মানুষের মন জয় করা সম্ভব, পাঁচুরিয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

সর্বশেষ