শি জিনপিংকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা ট্রাম্পের: নেপথ্যে কি নির্বাচন ও কূটনৈতিক হিসাব?
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ওয়াশিংটন সংলগ্ন বিমান ঘাঁটিতে শি জিনপিংয়ের ট্রিপল সেভেন বিমানটি অবতরণ করার পর তাকে আতিথেয়তায় ভরিয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণ কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভেঙে ট্রাম্প নিজেই বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে চীনা প্রেসিডেন্টকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
সাধারণত হোয়াইট হাউসেই বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করার প্রথা রয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় উদ্যোগ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
তিন দিনের এই সফরসূচিতে দুই পরাশক্তি প্রধানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ছাড়াও থাকছে একাধিক হাই-প্রোফাইল কর্মসূচি। হোয়াইট হাউসে পূর্ণ সামরিক সংবর্ধনার পাশাপাশি সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ প্রযুক্তি নির্বাহীদের সমন্বয়ে একটি নৈশভোজ এবং ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।
হঠাৎ কেন ট্রাম্পের এই নমনীয়তা?
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত মে মাসে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পরিস্থিতি ছিল এর সম্পূর্ণ বিপরীত। সে সময় চীনের বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে স্বাগত জানাতে শি জিনপিং তো যানইনি, বরং দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি বা চুক্তি ছাড়াই খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল ট্রাম্পকে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বেশ কিছু সংকট কাটিয়ে উঠতে এই সফরকে ট্রাম্প নিজের রাজনৈতিক চাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন। মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান ইস্যুতে মার্কিন নীতি নিয়ে ঘরের মাঠে অসন্তোষ ক্রমবর্ধমান। একই সঙ্গে ঘনাচ্ছে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন। বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে মার্কিন ভোটারদের ভেতরে তৈরি হওয়া উদ্বেগ প্রশমিত করাই এখন ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে, চীন অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে নানা উত্থান-পতনের ভেতর দিয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে শি জিনপিং এখন আগের চেয়েও সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে এই সফর শুরু করেছেন। শেষ পর্যন্ত রাজকীয় এই আতিথেয়তার বিনিময়ে ট্রাম্প বাণিজ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে শি জিনপিংয়ের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত কোনো সুবিধা আদায় করতে পারেন কি না, সেদিকেই নজর পুরো বিশ্বের।