মালয়েশিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি সিতি হাসমাহর প্রয়াণ: ৭০ বছরের বন্ধন শেষে মাহাথিরের একাকী পথচলা

September 28, 2026 • Times Asian24
4a766f67 e544 4098 b516 5da413c8d113 20260928184524
Share: Facebook X WhatsApp

শতবর্ষী বর্ণাঢ্য জীবনের ইতি টেনে পরলোকে পাড়ি জমালেন মালয়েশিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। তার প্রয়াণে দেশটির আধুনিক রূপকার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদের সাত দশকের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটল।

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে তিনি মারা যান। সিতি হাসমাহর ছেলে তান শ্রী মোখজানি মাহাথির বিষয়টি নিশ্চিত করার পরপরই সমগ্র মালয়েশিয়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

​জনসেবা ও দেশের স্বাস্থ্য খাতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের নির্দেশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় জানানো হয়। দুপুরে কুয়ালালামপুরের মসজিদ আস-শরিফে তার মরদেহ নিয়ে আসা হলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে মসজিদের বারান্দা ছাড়িয়ে সামনের সড়কেও বিশাল জনস্রোত তৈরি হয়, যার ফলে যানবাহন সামলাতে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করতে হয়।

​দুই দফায় আসরের নামাজ শেষে আয়োজিত জানাজায় অংশ নেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, তার স্ত্রী ড. ওয়ান আজিজাহ, উপপ্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাদিল্লাহ ইউসুফ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী তান সেরি মুহিউদ্দিন ইয়াসিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা। প্রিয় সহধর্মিনীকে শেষ বিদায় জানাতে ভগ্ন হৃদয়ে সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ নেতা মাহাথির মোহাম্মদও।

​পরবর্তীতে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো তার কফিন পূর্ণ সামরিক ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় পুত্রজায়ার ‘পুসারা নেগারা’ জাতীয় গোরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাজপরিবারের সদস্য, পেনাংয়ের গভর্নর এবং বিভিন্ন মন্ত্রী ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে প্রয়াত দাতিন সেরি এন্ডন মাহমুদের কবরের পাশে সিতি হাসমাহকে সমাহিত করা হয়।

​উল্লেখ্য, সিতি হাসমাহ পেশায় একজন চিকিৎসক ছিলেন এবং মালয়েশিয়ার চিকিৎসা ইতিহাসে নারী অগ্রদূত হিসেবে বিশেষ স্বীকৃতি পান। বিশেষ করে দেশটির গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে তিনি সারাজীবন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। ১৯৫৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই মহিয়সী নারী সাত সন্তানের জননী ছিলেন। রাজনীতি ও জনজীবনের প্রতিকূলতা ছাড়িয়ে দীর্ঘ সাত দশক মাহাথির মোহাম্মদের বিশ্বস্ত সুহৃদ হয়ে পাশে থাকার পর অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *