পোস্ট অফিসের সঞ্চয় মুনাফা কি হালাল? শায়খ আহমাদুল্লাহর তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখ্যা
নিরাপদ বিনিয়োগ ও নিশ্চিত আয়ের আসায় দেশের বহু অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রবাসী ও মধ্যবিত্ত পরিবার পোস্ট অফিসের বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পে অর্থ গচ্ছিত রাখেন। তবে এসব সঞ্চয়পত্র বা ডিপোজিট থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত অর্থ শরিয়তের দৃষ্টিতে হালাল নাকি সুদের আওতাভুক্ত—তা নিয়ে অনেক দিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। সম্প্রতি জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ এই বিষয়ে শরীয়তের স্পষ্ট বার্তা উপস্থাপন করেছেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, পোস্ট অফিসে সাধারণ উদ্দেশ্যে টাকা রাখা বা গচ্ছিত রাখা জায়েজ হলেও, যদি মূল লক্ষ্য থাকে পূর্বনির্ধারিত অতিরিক্ত অর্থ বা মুনাফা অর্জন করা, তবে তা শরিয়তসম্মত নয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ইসলামে যেকয়টি অবৈধ উপার্জনের পথ রয়েছে, তার মধ্যে রিবা বা সুদ সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধ। তিনি সতর্ক করে বলেন, সুদের অনুপার্জিত আয়ের বিরুদ্ধে খোদ মহান আল্লাহ যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন এবং হাদিস শরীফে এর ভয়াবহতা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে।
ইসলামি অর্থনীতিবিদ ও ফিকহবিদদের মতে, যেকোনো ব্যবসায়িক লাভ হালাল হতে হলে সেখানে ‘ঝুঁকি বণ্টন’ বা লাভ-ক্ষতির অংশীদারত্ব থাকা আবশ্যক—যেমনটা ইসলামি মুদারাবা বা মুশারাকা নীতিতে দেখা যায়। হানাফি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ফিকহ গ্রন্থ আল-হিদায়া, ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি এবং ইবনে আবেদীন শামির রদ্দুল মুহতার-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো চুক্তি যদি মূলধনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্ধারিত হারে বাড়তি টাকা দেওয়ার গ্যারান্টি দেয়, তবে তা ব্যবসায়িক মুনাফা থাকে না; বরং তা ঋণের ওপর নির্ধারিত সুদে পরিণত হয়।
পোস্ট অফিসের বিদ্যমান সঞ্চয় কাঠামো পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্রাহক প্রকৃতপক্ষে সরকারকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণ প্রদান করেন এবং বিনিময়ে ব্যবসায়িক লাভ-ক্ষতির ঝুঁকি ছাড়াই পূর্বনির্ধারিত হারে নিশ্চিত টাকা পান। ফিকহবিদদের সর্বসম্মত মতানুসারে, ব্যবসায়িক ঝুঁকি না নিয়ে ঋণের ওপর পাওয়া এই অতিরিক্ত অর্থ পুরোটাই সুদের অন্তর্ভুক্ত।
উল্লেখ্য, পবিত্র কুরআনের সুরতুল বাকারার ২৭৫-২৭৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে সম্পূর্ণরূপে হারাম ঘোষণা করেছেন। তাই শরিয়তসম্মত উপায়ে উপার্জনের জন্য নিশ্চিত সুদের স্কিমগুলো পরিহার করে প্রকৃত লাভ-ক্ষতির ঝুঁকিযুক্ত হালাল বিনিয়োগের পথ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন আলেম সমাজ।