বায়ুদূষণ রোধে কড়া পদক্ষেপ দিল্লির: টানা দেড় মাস বন্ধ থাকবে সব ধরনের নির্মাণকাজ

September 28, 2026 • Times Asian24
image 1200x700 6 1790603669
Share: Facebook X WhatsApp

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বাতাসকে বিষাক্ত বায়ুদূষণের হাত থেকে বাঁচাতে একগুচ্ছ কঠোর ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে পরিবেশ সুরক্ষায় আগাম পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত টানা দেড় মাস (৬ সপ্তাহ) মেগাসিটিটিতে সব ধরনের নির্মাণ কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

​আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পরিবেশবিষয়ক শীতকালীন বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশকালে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মানজিন্দর সিং সিরসা।

​তিনি জানান, আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত এই নির্মাণ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। চরম দূষণ থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় এবং বাতাসের গুণমান বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছানো ঠেকাতেই মূলত এ আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

​প্রায় তিন কোটি মানুষের আবাস্থল দিল্লি বিশ্বের সর্বাধিক দূষিত নগরীগুলোর মধ্যে অন্যতম। মূলত বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষাক্ত নির্গমন, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের উড়ানো ধূলিকণা এবং আশপাশের কৃষাঞ্চলের খড় পোড়ানোর ধোঁয়ায় প্রতি শীতের শুরুতে এখানকার পরিবেশ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ে। শীতের ঠাণ্ডা বাতাসের ভারী স্তরের কারণে ক্ষতিকর কণাগুলো বায়ুমণ্ডলের নিচের দিকে আটকা পড়ে পরিস্থিতিকে আরও সঙ্গীন করে তোলে।

​প্রশাসন জানায়, শুধু নির্মাণকাজ বন্ধই নয়, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে পার্কিং ফি বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সড়কে যানজট ও যানবাহনের ধোঁয়া কমাতে ১ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মঘণ্টায় আনা হচ্ছে ভিন্নতা। গণপরিবহন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে দেওয়া হচ্ছে একাধিক দিকনির্দেশনা।

​আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ৩৮ লাখ মানুষের অকালমৃত্যুর পেছনে বড় কারণ ছিল এই বায়ুদূষণ। শীতকালে দিল্লিতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী সূক্ষ্ম ধূলিকণা ‘পিএম ২.৫’-এর মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ৩০০ মাইক্রোগ্রাম ছাড়িয়ে যায়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নিরাপদ সীমার চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি।

​এর আগে কৃত্রিম বৃষ্টি তৈরি কিংবা আংশিক গাড়ি চলাচলের মতো নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা খুব একটা কাজে আসেনি। তবে নতুন এই সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে এবার দূষণ পরিস্থিতির সুনির্দিষ্ট উন্নতি হবে বলে আশা করছে দিল্লি প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *