মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় সম্রাটের জামিন বাতিল, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

October 26, 2025 • Times Asian24
samrat 3 20250817152622 20251026153206
Share: Facebook X WhatsApp

১৯৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে রাজধানীর রমনা থানার মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় জামিনে থাকা আসামি ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের জামিন বাতিল করেছেন আদালত। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

রোববার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান এ আদেশ দেন। 

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মামলাটিতে সম্রাটের ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানিতে বলা হয়, সম্রাট জামিনে থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত হয়েছেন। তিনি দেশবিরোধী কাজ করছেন। তিনি আদালতের অনুমতি না দিয়েই দেশের বাইরে চলে গেছেন। পরে আদালত তার ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আদেশ বাতিল করেন। পাশাপাশি জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এই মামলায় অপর আসামি আরমান জামিনে থেকে একাধিকবার আদালতে উপস্থিত হননি। এজন্য তার জামিনও বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। 

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও আসামিদের হাজিরার জন্য দিন ধার্য ছিল। আসামি সম্রাটের পক্ষে তার আইনজীবী আফরোজা শাহনাজ পারভীন ২০৫ ধারায় হাজিরা দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন তার এই হাজিরা বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। এ বিষয়ে শুনানি চলাকালে বিচারক আসামিপক্ষের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, সম্রাট কোথায় আছে? জবাবে আইনজীবী জানান, তিনি কোথায় আছেন জানা নেই। এরপর বিচারক বলেন, রোববার আসামি সম্রাটের উপস্থিতিতে এ বিষয়ে শুনানি হবে।

২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিআইডির উপ-পরিদর্শক রাশেদুর রহমান বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, কাকরাইলের ‘মেসার্স হিস মুভিজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বসে মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন, কাকরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড’ চালাতেন সম্রাট। এভাবে তিনি ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ‘বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ’ উপার্জন করেন। এসব অর্থের উৎস গোপন করার জন্য সহযোগী এনামুল হক আরমানের মাধ্যমে তিনি সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ায় অর্থপাচার করেন। পাচার করা টাকার পরিমাণ আনুমানিক ১৯৫ কোটি টাকা। সম্রাট ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ৩৫বার সিঙ্গাপুরে, তিনবার মালয়েশিয়ায়, দুবার দুবাইয়ে, একবারহংকংয়ে গেছেন। আর এনামুল হক আরমান ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১৮ মে পর্যন্ত সময়ে ২৩বার ‍সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করেছেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *