বিশ্ববাজারে মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ এর একচেটিয়া আধিপত্য ভাঙতে নতুন স্টিলথ ফাইটার জেট জে-৩৫এই উন্মোচন করেছে চীন। পঞ্চম প্রজন্মের এই মাল্টি-রোল ফাইটার জেটের প্রথম বিদেশি ক্রেতা হিসেবে নাম আসতে যাচ্ছে পাকিস্তানের। খবর এনডিটিভির।
সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি-তে জে-৩৫এই এর একটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত মডেল প্রদর্শন করা হয়েছে। বিমানটিতে চীনা বিমানবাহিনীর পরিবর্তে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অফ চায়না-র লোগো লাগানো ছিল, যা স্পষ্ট করে যে এটি বিদেশি বাজারে বিক্রির জন্য তৈরি। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ এর একটি সস্তা কিন্তু শক্তিশালী বিকল্প।
কেন এই জেটটি শক্তিশালী?
গতি ও প্রযুক্তি: এটি শব্দের চেয়ে ১.৮ গুণ বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম। এতে রয়েছে উন্নত এইএসএ রাডার, যা একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে।
রাডার ফাঁকি ও মারণাস্ত্র: রাডার ফাঁকি দেওয়ার জন্য এর ভেতর রয়েছে বিশেষ অস্ত্রাগার, যেখানে পিএল-১৫ এর মতো দূরপাল্লার মিসাইল বহন করা যায়।
উৎপাদন সক্ষমতা: চীন দাবি করছে, তারা প্রতি ৭২ ঘণ্টায় একটি করে এমন যুদ্ধবিমান তৈরি করতে সক্ষম। প্রতি ইউনিটের দাম ধরা হয়েছে ৩৫ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে।
দীর্ঘদিন ধরেই এই জেটের বিষয়ে বেইজিং ও ইসলামাবাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান জহির সিধু এই জেট কেনার আনুষ্ঠানিক ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। গুঞ্জন রয়েছে, পাকিস্তান অন্তত ৪০টি জে-৩৫এই বিমান কেনার পরিকল্পনা করছে এবং তাদের পাইলটরা ইতিমধ্যে চীনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
যদিও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ এই খবরকে ‘মিডিয়া হাইপ’ বলে অভিহিত করেছেন, তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের শেষ বা ২০২৭ সালের মধ্যে এই যুদ্ধবিমানগুলো পাকিস্তানের বিমান বহরে যুক্ত হতে পারে। যদি এই চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়, তবে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশসীমায় সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।