কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ থমকে গেল নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত: চরম জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বাংলাদেশ

September 29, 2026 • Times Asian24
lng 6abb70783ebcc
Share: Facebook X WhatsApp

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় বাংলাদেশকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কাতার। দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ (অনিবার্য পরিস্থিতি) সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির সময়সীমা বৃদ্ধি করায় আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত কাতার থেকে কোনো গ্যাসের চালান আসছে না। ফলে চরম জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের হুমকিতে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি গ্যাস আমদানিকারক দেশ।

​রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক ও ইতালীয় সংস্থা এডিসনের বরাতে বলা হয়েছে, কাতারএনার্জি এশীয় দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে আগামী নভেম্বরের পূর্বে কোনো এলএনজি কার্গো পাঠানো সম্ভব হবে না। এর আগে গত এপ্রিল মাসে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে প্রথমবারের মতো এই জরুরি বিজ্ঞপ্তি বা ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বেশ কয়েক দফায় এর মেয়াদ বাড়ানো হয়।

​বিশ্বের শীর্ষ গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ কাতার এই সংকটের কারণে নজিরবিহীন রাজস্ব ক্ষতির শিকার হয়েছে। বাজার নিরীক্ষণ সংস্থা আইসিআইএস-এর পরিসংখ্যান মতে, বিগত বছরের আগস্টে কাতার যেখানে ৫০৯টি গ্যাসের কার্গো বিশ্ববাজারে সরবরাহ করেছিল, সেখানে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত তারা মোটে ১৮টি কার্গো পাঠাতে সমর্থ হয়েছে। ফলে দেশটির এলএনজি চালান পাঠানোর হার প্রায় ৯৬ শতাংশ কমে গেছে।

​ইতালির জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এডিসন জানিয়েছে, কাতার থেকে আরও ছয়টি কার্গো বাতিল হওয়ায় তাদের অপাপ্ত চালানের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৫টিতে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প হিসেবে মার্কিন বাজারের দিকে ঝুঁকলেও বাংলাদেশের মতো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে থাকা দেশগুলোর জন্য খোলাবাজার থেকে চড়া দামে গ্যাস কেনা বা বিকল্প উৎস খোঁজা বেশ দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।

​উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানা পরিচালনার অন্যতম প্রধান নির্ভরতা এই কাতারি গ্যাস। নভেম্বরের আগে এই আমদানি স্বাভাবিক না হলে দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিল্প খাতে নতুন করে স্থবিরতা দেখা দেওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *