আত্মহত্যাকে অপরাধ গণ্য করার আইন বদলের উদ্যোগ, ডেঙ্গুর ‘পিক’ সময় নিয়ে সতর্কতা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

September 9, 2026 Times Asian24
1788941576 screenshot 9 9 2026 2 11 51
Share: Facebook X WhatsApp

চলতি মাস ও অক্টোবরের শুরুতেই দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের বড় ধরণের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে তিন মাসব্যাপী বিশেষ সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে সরকারের এই সর্বোচ্চ সতর্কতার কথা জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে আত্মহত্যার চেষ্টা সংক্রান্ত প্রচলিত আইন সংশোধন এবং মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলের ওপর জোর দেন তিনি।

​মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ‘ইটস গুড টু টক’ (কথা বলাই শ্রেয়) শীর্ষক এক সচেতনতামূলক প্রচারণার ধারণাও উপস্থাপন করেন। আত্মহত্যা সম্পর্কিত বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আত্মহত্যা চেষ্টাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার মানসিকতা ভুল। কোনো ব্যক্তি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে এমন পথ বেছে নেয়, অথচ বর্তমান আইনি কাঠামো তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করে। এতে সামাজিক কুসংস্কার ও স্টিগমা আরও বাড়ে।” একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আইনটির প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে জাতীয় সংসদে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

​অন্যদিকে, দেশের বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও আসন্ন ঝুঁকি নিয়ে কড়া বার্তা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর মাসের প্রথমার্ধের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ চূড়ায় (পিক সময়) পৌঁছাতে পারে। তবে সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই। বিশেষ এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

​চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীর সঠিক পরিচর্যায় ইতোমধ্যে সারাদেশের প্রায় ৩০০ জন চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করানো হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জনরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি বজায় রাখছেন। আগামী দিনগুলোতে হাসপাতালে যেন স্যালাইন, শয্যা কিংবা পরীক্ষার কিটের কোনো সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য দুই মাস আগেই পর্যাপ্ত সরঞ্জাম মজুদ করা হয়েছে।

​বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, সংকটকালীন পরিস্থিতিতে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য ডেডিকেটেড বেড চালু রাখতে হবে। একই সাথে রোগীদের কাছ থেকে কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত ফি আদায় করা যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *