প্রতিমন্ত্রী নিয়োগে ক্ষোভ: প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হচ্ছে হেফাজত
ধর্ম মন্ত্রণালয়ে সদ্য নিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এই পদে নতুন মুখ আনার যৌক্তিকতা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বাবুনগর মাদরাসায় সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা এক নীতি নির্ধারণী জরুরি বৈঠকে মিলিত হন।
সংগঠনের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সংগঠনের নায়েবে আমির ও মধুপুরের পীর মাওলানা আব্দুল হামীদসহ শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা প্রশ্ন তোলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণ মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও নতুন করে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে। একই সঙ্গে সদ্য পদায়ন পাওয়া প্রতিমন্ত্রীর বিগত দিনের রাজনৈতিক অবস্থান ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করা হয়।
বৈঠকে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী উল্লেখ করেন, বর্তমান সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনোভাবেই সমীচীন হয়নি।
৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল গঠন
পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, উদ্ভূত বিষয়টি নিয়ে সংক্ষুব্ধ আলেমসমাজ সরাসরি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে কথা বলবেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান এবং নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হামীদ (পীর সাহেব মধুপুর)-এর যৌথ নেতৃত্বে বিশিষ্ট আলেমদের একটি ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল খুব শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য যাবেন।
এদিকে সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বার্তা বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই প্রতিনিধিদলের চূড়ান্ত আলোচনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতে ইসলাম বা কোনো মাদরাসার প্রতিনিধি নতুন ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর আয়োজিত কোনো সভা-সেমিনারে অংশ নেবেন না।
জরুরি এই বৈঠকে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী, মাওলানা ইয়াকুব উসমানি, মাওলানা আবু আম্মার আব্দুল্লাহ এবং মাওলানা নুরুল হকসহ হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম।