২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১১ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

আরেক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো আইভীকে

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সিদ্ধিরগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় করা আরও একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার নম্বর ৪১ মামলায় আইভীকে এই শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই কৃষক ওয়াজেদ আলী বাদী হয়ে ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

মামলায় অভিযোগে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংগঠিত সহিংসতার ঘটনায় আগুনে পুড়ে নিহত হয় ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডল। মামলাটি তদন্ত করছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার  উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাছুম বিল্লাহ। তিনি এই মামলায় তদন্তে সাবেক মেয়র আইভীর সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে আইভীকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। বিষয়টি আদালত গ্রহণ করে আইভীকে গ্রেফতার দেখান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, বর্তমানে আইভী কারাগারে থাকায় আদালতের নির্দেশে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই  চিটাগাং রোড এলাকায় ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের  নিচতলায় অগ্নিসংযোগ ঘটে। এতে ব্যাংকের ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের কাজে নিয়োজিত সেলিম মন্ডল সহ তিন শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা যায়।

এর আগে আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলায় এবং সদর মডেল থানায় দায়ের করা হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলায় জামিন পান।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৯ মে ভোর রাতে শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই সঙ্গে গত বছরের নভেম্বর মাসে হাইকোর্ট ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পাঁচ মামলায় জামিন দিয়েছিলেন। এরপর আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়। পরে ১৮ নভেম্বর তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা ও সদর থানায় দায়ের করা আরও পাঁচ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।

সর্বশেষ