ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে ব্যালেস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করে নিজেদের সামরিক শক্তির জানান দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। রোববার ভোরে দেশটির পূর্ব উপকূলের সিনপো শহর থেকে সমুদ্রের অভিমুখে এই মিসাইলগুলো ছোড়া হয়।
চলতি মাসে এটি পিয়ংইয়ংয়ের চতুর্থ এবং বছরের সপ্তম মিসাইল পরীক্ষা। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকটের এই সময়ে নিজেদের আত্মরক্ষা সক্ষমতা বিশ্বদরবারে প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাড়তি সুবিধা আদায় করাই উত্তর কোরিয়ার মূল লক্ষ্য।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ১০ মিনিটের দিকে মিসাইলগুলো নিক্ষেপ করা হয়, যা প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সমুদ্রের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। জাপানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মিসাইলগুলো কোরিয়া উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলে পতিত হয়েছে এবং তাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।
এই ঘটনার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ‘ব্লু হাউস’ একটি জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক আহ্বান করে এবং উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশনের চরম লঙ্ঘন ও উসকানিমূলক কাজ হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানায়।
উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক তৎপরতার পেছনে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা কিম কি-জং। তাঁর মতে, ইরান যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে পিয়ংইয়ং বিশ্বকে দেখাতে চায় যে, তাদের পারমাণবিক ও সামরিক আত্মরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং অজেয়।
এছাড়া মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এশিয়া সফরের আগে উত্তর কোরিয়া কৌশলে নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে আলোচনার টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার চেষ্টা করছে। যদিও ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং কিম জং উনের সাথে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রসি গত বুধবার এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন যে, উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতায় ‘মারাত্মক’ উন্নতি ঘটিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পিয়ংইয়ং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে নতুন একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র যুক্ত করেছে।
গত মার্চ মাসে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছিলেন যে, পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান এখন অপরিবর্তনীয় এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। ইরান যুদ্ধের আবহে কিমের এই মারমুখী অবস্থান এশীয় অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতার জন্ম দিচ্ছে।