মানুষের মতো তারও নাকি আভিজাত্য ভরপুর! বাসি কিংবা পচা খাবার একদমই মুখে তোলে না। খাবারের তালিকায় চাই প্রতিদিন তাজা ঘাস, গমের ভুসি, ভুট্টার গুঁড়া, কলা আর হাঁসের ডিম। এমন রাজকীয় স্বভাবের কারণেই ভালোবেসে তার নাম রাখা হয়েছে ‘জমিদার’।
১১ ফুট দৈর্ঘ্য আর ৬ ফুট উচ্চতার এই ‘জমিদার’ কোনো মানুষ নন, জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের এক বিশাল আকৃতির ষাঁড় গরু। সাদা শরীরে কালো ছোপ ছোপ দাগওয়ালা প্রায় ৩২ মণ ওজনের এই গরুটিকে দেখতে প্রতিদিন রফিকুল ইসলাম ও রোজিনা বেগম দম্পতির বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক মানুষ। মালিকপক্ষের দাবি, এটিই বর্তমানে মেলান্দহ উপজেলার সবচেয়ে বড় গরু।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে মাহমুদপুর গ্রামে রফিকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। বাড়ির আঙিনায় গোয়ালঘরে বাঁধা রয়েছে বিশাল দেহের জমিদার। সামনে রাখা তাজা ঘাস পরম যত্নে খাইয়ে দিচ্ছেন গৃহবধূ রোজিনা বেগম। পরে পাইপ দিয়ে শ্যাম্পু করে ধুয়ে দেওয়া হয় জমিদারের শরীর। অপরিচিত মানুষ দেখে গরুটি মাঝেমধ্যে তেড়ে আসলেও রোজিনা বেগমের হাতের স্পর্শ আর আদুরে ডাকে মুহূর্তেই শান্ত হয়ে যাচ্ছে সে।
মালিক রোজিনা বেগম জানান, চার বছর আগে তাঁদের নিজেদের একটি পালিত গাভি থেকে জন্ম হয় জমিদারের। কোনো ক্ষতিকারক ওষুধ ছাড়া সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চার বছর ধরে পরম যত্নে একে বড় করে তুলেছেন তারা।
”মানুষ যেমন জমিদারের মতো বেছে বেছে ভালো খাবার খায়, এই গরুর স্বভাবও ঠিক তেমন। নাম ধরে ডাকলে ও সাড়া দেয়, কথা বললে মনোযোগ দিয়ে শোনে। তাই ভালোবেসে ওর নাম রেখেছি জমিদার।”
— রোজিনা বেগম, গরুর মালিক
জমিদারের পেছনে প্রতিদিন খরচ প্রায় এক হাজার টাকা। গরুর অপর মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, “নিজের সন্তানের মতোই ওকে বড় করেছি। প্রতিদিন ওর পেছনে অনেক খাটুনি আর খরচ। গত বছর কোরবানি ঈদে জমিদারের দাম উঠেছিল ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। কিন্তু আরও বড় আর সুন্দর হবে এই আশায় তখন বিক্রি করিনি। এবার আসন্ন ঈদুল আজহায় হাটে তোলার জন্য আমরা এর দাম হেঁকেছি ১৩ লাখ টাকা।”
মেলান্দহ শহর থেকে জমিদারকে দেখতে আসা ফিরোজ মিয়া নামের এক দর্শনার্থী বলেন, “এত বড় গরু এই উপজেলায় আর দ্বিতীয়টি আছে বলে মনে হয় না। মানুষের মুখে জমিদারের গল্প শুনে নিজের চোখে দেখতে এলাম। সত্যিই দেখার মতো গরু।” স্থানীয় বাসিন্দা আজগর আলীও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এতদিন টিভিতে বা গল্পে বড় গরুর কথা শুনেছি, আজ সামনাসামনি দেখলাম।”
এ বিষয়ে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এ টি এম হাবিবুর রহমান জানান, প্রান্তিক খামারিরা এখন বৈজ্ঞানিক ও দেশীয় পদ্ধতিতে বড় আকৃতির গরু পালন করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে ‘জমিদার’ নামের এই গরুটির নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে এবং মালিককে প্রয়োজনীয় সব পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আসন্ন কোরবানির ঈদে মেলান্দহের এই ‘জমিদার’ পশুর হাটে বেশ সাড়া জাগাবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।