যেকোনো মুহূর্তে মার্কিন হামলার আশঙ্কা সতর্ক অবস্থানে ইরান
যেকোনো মুহূর্তে মার্কিন হামলার আশঙ্কা, সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো মুহূর্তে হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের অনুমোদন পেলেই ইরানে বিমান হামলা চালানোর জন্য সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পেন্টাগন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিবেচনায় রয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা কবে কার্যকর হতে পারে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আজ রাতেই হামলা চালাতে পারে। তবে তেহরানের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তির সম্ভাবনাও তিনি পুরোপুরি নাকচ করেননি।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে আলোচনার পথ বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ তুলেছেন। তবে উত্তেজনা সত্ত্বেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার অবস্থান থেকে সরে আসেননি তিনি। দুই দেশের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান
উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সাঈদ খাতিবজাদেহ সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও ঐক্যবদ্ধ।
ইউরোপের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দেশগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া বন্ধ না করলে তাদের ওপর আস্থা রাখা কঠিন হবে।
প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করছে তেহরান
সম্ভাব্য যুদ্ধের ঝুঁকি বিবেচনায় দেশের অভ্যন্তরেও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করছে ইরান। অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি হুমকি মোকাবিলায় ‘জানফাদা’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচি দেশজুড়ে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
‘জানফাদা’ শব্দটির অর্থ ‘যারা জীবন উৎসর্গ করেন’। কর্মসূচিটির আওতায় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সের নাগরিকদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তাবিষয়ক প্রস্তুতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সম্ভাব্য আগ্রাসনের পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিরক্ষায় সাধারণ নাগরিকদের প্রস্তুত রাখাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক হুমকি, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তের তথ্য এই বিবরণে নেই।