ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন চায় জামায়াত

October 25, 2026 • Imran Hossain
army 6ade0472c28eb
Share: Facebook X WhatsApp

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন চায় জামায়াত, ইসিতে ৯ অভিযোগ ও ৩ দাবি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে নির্বাচনে অনিয়ম, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে নয়টি অভিযোগ ও তিনটি দাবি উপস্থাপন করেছে দলটি।

আগামী ২৯ অক্টোবর এ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াতের অভিযোগ, নির্বাচনে প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক করেন জামায়াতের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও ইসির সিনিয়র সচিব উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেনসহ অন্য নেতারা।

বৈঠক শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রশাসন, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ নিরপেক্ষ নয়। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় একটি প্রতিনিধিদল শনিবার ঠাকুরগাঁওয়ে গিয়ে সরেজমিনে নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। পরে এসব অভিযোগের পক্ষে ছবি, আহত ব্যক্তিদের ছবি ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিভিন্ন প্রমাণ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

ইউএনওর বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ

মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। তাঁর দাবি, ওই কর্মকর্তা রাতে প্রার্থীর বাড়িতে বৈঠক করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার মতো পোস্ট দিয়েছেন।

এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, টাকা লেনদেন এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। এসব অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়নি বলে দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা।

নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং নারী-পুরুষ আহত হওয়ার অভিযোগ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এসব ঘটনায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

এ ছাড়া মসজিদের ভেতরে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী সভা, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন প্রতীক ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ের আগে মাইক বাজানোর অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে হিন্দু ভোটারদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষকদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া ভোটারদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বিভিন্ন ইউনিয়নে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন এবং বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

জামায়াতের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *