৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

যুবদলের পদে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার আসামি, কমিটি বিলুপ্ত

ফেনীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার এক আসামিকে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করা নিয়ে তীব্র আলোচনা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত করে সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার এবং ঘোষিত ১২টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

রোববার (৩ মে) দুপুরে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়। এতে ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ৮ সদস্যের কমিটিতে গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। পরে জানা যায়, সুজন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি, যা নিয়ে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর প্রেক্ষিতে শনিবার (২ মে) ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাদে বাকি ৬ জন পদত্যাগ করেন।

কেন্দ্রীয় যুবদলের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ফেনী পৌর যুবদলের বিদ্যমান কমিটি স্থগিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এর কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। গত ৩০ এপ্রিল ঘোষিত সব ওয়ার্ড কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। তথ্য গোপন করে দলীয় পদ গ্রহণ করায় গাজী এনামুল হক সুজনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না এবং সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে পৌর যুবদলের সভাপতি এ কে এম জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সামনে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২৮ জন এজাহারভুক্ত আসামির মধ্যে এনামুল হক সুজনের নাম ২৫ নম্বরে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

ওই কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন বলেন, সুজন আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন এবং তার পরিবারের সদস্যরাও সেই দলে সক্রিয়। ৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। কমিটিতে বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- তাদের নেতৃত্বে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলেই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেছি।

অভিযুক্ত এনামুল হক সুজন বলেন, পুরো ঘটনাটি পারিবারিক প্রতিহিংসার ফল। কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন আমার জেঠাতো ভাই এবং এই কমিটিতে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ চলছে। ৫ আগস্টের পরপরই আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা করা হয়, যা নিয়ে দল থেকেও তখন প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল।

ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, ৫ আগস্টের পর শ্রমিক লীগ নেতা আবুল কাশেম মিলন বাদী হয়ে খালেদা জিয়ার ওপর হামলার অভিযোগে মামলা করেন, যেখানে সুজনকে আসামি করা হয়। তখন এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল এবং জেলা বিএনপি ও যুবদল বিষয়টি অবগত আছেন। ঘটনাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

জেলা যুবদলের দপ্তর-দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মো. আল ইমরান বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফেনী পৌর যুবদলের ১২টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত, পৌর কমিটি স্থগিত, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ এবং সুজনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

সর্বশেষ