ফরিদপুর সদরে আলোচিত তিন খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত আকাশ মোল্লাকে (২৮) গ্রেফতার করেছে র্যাব ও পুলিশের যৌথ দল।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে বাড়ির পাশের একটি কলাবাগান থেকে তাকে কোদালসহ গ্রেফতার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার আকাশ মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালটি উদ্ধার এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে, অভিযুক্ত আকাশ মোল্লা ফরিদপুরে যক্ষা নিরাময় কেন্দ্রে চাকরি করতেন। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার কারণে তার চাকরি চলে যায়। এরপর গত কয়েকমাস ধরে আকাশ মোল্লা বাড়িতে থাকতেন। মাঝে মধ্যেই এদিক সেদিক চলে যেতেন। তার বাবা ও পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজে এনে অনেক সময় ঘরে আটকে রাখতেন। এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযানে অংশ নেওয়া র্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার গাজী মো. লুৎফর রহমান বলেন, অভিযুক্ত আকাশ মোল্লার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালানো হয়। তাকে বাড়ির পাশের কলাবাগান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল, যা তার মানসিক অবস্থার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং আইনি কার্যক্রম শুরু করে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত আকাশ মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে তার এই আচরণের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা পরিকল্পনা ছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। আকাশ মোল্লা হঠাৎ কোদাল দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলেই তার ফুফু রাহেলা বেগম (৫০), দাদি আমেনা বেগম (৭৫) ও প্রতিবেশী কাবুল (৪৫) নিহত হন। একই ঘটনায় রিয়াজ মোল্লা (৪৫) নামে আরেক প্রতিবেশী গুরুতর আহত হন।