প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। এর মধ্য দিয়ে গত কয়েক মাস ধরে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ গন্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল।
দলীয় সূত্র ও সংসদীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর নিয়ে জোর আলোচনা চলছিল। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন সরকার প্রধানদের প্রথম বিদেশ সফরে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার একটি দীর্ঘদিনের অনানুষ্ঠানিক ঐতিহ্য রয়েছে। এবারও তেমনটি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়ার কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক ধরনের যুদ্ধাবস্থা ও অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। সার্বিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের পূর্বপরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার।
সফর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন,
“প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে আমরা বিকল্প গন্তব্যের কথা ভাবি। সবদিক বিবেচনা করে বন্ধুপ্রতিম দেশ মালয়েশিয়াকেই প্রথম সফরের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।”
প্রতিবেশী দেশের বিকল্প হিসেবে মালয়েশিয়া
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সৌদি সফর বাতিলের পর দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) ভুক্ত কোনো প্রতিবেশী দেশ, বিশেষ করে ভুটান বা নেপাল দিয়ে সফর শুরু করার একটি প্রস্তাব সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচিত হয়েছিল। তবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জনশক্তি রপ্তানি এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি মালয়েশিয়াকেই বেছে নেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের একটি বিশাল শ্রমবাজার রয়েছে। পাশাপাশি দেশটির সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের বড় সুযোগ রয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিগিরই এই সফরের চূড়ান্ত সূচি ও প্রতিনিধি দলের তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়