গিনিতে বর্জ্যের পাহাড় ধসে প্রাণহানি ৩০: ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্যাগার বন্ধের ঘোষণার পরই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে এক ভয়াবহ বর্জ্য ধসের ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ৩০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২২ জন। সম্প্রতি টানা বর্ষণের জেরে বিশালাকার আবর্জনার স্তূপ ধসে পডায় সংলগ্ন বেশ কয়েকটি ঝুপড়ি ঘর ও ভবন চাপা পড়ে এই নির্মম প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, কোনাক্রির গ্বেসিয়া এলাকার দার এস সালাম বর্জ্যাগ্যারে মধ্যরাতে এই বিপর্যয় ঘটে। অতিবৃষ্টির কারণে জমে থাকা বর্জ্যের বিশাল স্তূপটি হঠাৎ ধসে পড়ে পাশের বসতিগুলোর ওপর। এ সময় ঘুমন্ত অবস্থায় ডজনখানেক মানুষ মাটির নিচে চাপা পড়েন। উদ্ধারকারীরা ক্রেন ও হেভি যন্ত্রপাতি নিয়ে দ্রুত অভিযান শুরু করলেও আবর্জনার স্তূপ অত্যন্ত ভারী হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়। দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঝুঁকি জেনেও নেওয়া হয়নি কার্যকর পদক্ষেপ
দুর্ঘটনার পর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই গিনি সরকার বর্ষাকালে এই এলাকাটিকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। দেশটির স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, দার এস সালামের এই বিপজ্জনক বর্জ্যাগারটি অবিলম্বে বন্ধ করে পুরো আবর্জনা শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার আগেই ঘটে গেল এই বড় ধরনের বিপর্যয়।
গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উদ্ধারকাজ জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
সম্পদের প্রাচুর্য সত্ত্বেও দুর্বল পরিকাঠামো
আফ্রিকার এই দেশটি বিশ্বে বক্সাইটের অন্যতম শীর্ষ মজুদদার এবং লৌহ আকরিক সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও পরিকাঠামোগতভাবে অত্যন্ত দুর্বল। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, গিনির এক কোটি ৫১ লাখ মানুষের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বেশি চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে। প্রতি বছর বর্ষাকালে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে দেশটিতে বন্যা ও ভূমিধসের মতো বিপর্যয় ঘটে থাকলেও স্থায়ী সমাধানের অভাব স্পষ্ট।
ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকাটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো উদ্ধার তৎপরতা চলছে।