‘নেতানিয়াহু আমার কথাই শুনবেন’, ইরান নিয়ে হুঙ্কার ট্রাম্পের

মে ২০, ২০২৬ Times Asian24
Trump calls Netanyahu
Share: Facebook X WhatsApp

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে তৈরি হওয়া তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর ইচ্ছানুযায়ীই পদক্ষেপ নেবেন। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, এ নিয়ে তাঁর কোনো তাড়াহুড়ো নেই।
​গত বুধবার (২০ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

​সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ইরানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে কোনো বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন কি না। জবাবে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে যা করা প্রয়োজন তা-ই করার পরামর্শ দেবেন এবং নেতানিয়াহু তাঁর সেই সিদ্ধান্তই মেনে চলবেন।

​যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, “নেতানিয়াহু একজন ভালো মানুষ এবং তিনি একটি যুদ্ধকালীন সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।”

​ট্রাম্পের অগ্রাধিকার: হরমুজ প্রণালি ও কম প্রাণহানি
​ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সীমিত চুক্তির সম্ভাবনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের প্রধান দুটি লক্ষ্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই মুহূর্তে তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্ববাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ সচল রাখা এবং একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা।

​ট্রাম্প বলেন, “আমরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কূটনৈতিক উপায়কে একটি সুযোগ দিতে চাই। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আমার কোনো তাড়াহুড়ো নেই।” সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে নানা রাজনৈতিক সমীকরণ থাকলেও, তিনি কোনো চাপে পড়ে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিতে চান না উল্লেখ করে বলেন, তাঁর মূল অগ্রাধিকার হলো যেকোনো উপায়ে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি কমানো।

​”কূটনৈতিক সমাধানের জন্য আমরা আরও দুই-তিন দিন বা সীমিত কিছু সময় অপেক্ষা করতে পারি।”
— ডোনাল্ড ট্রাম্প

​উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবার ইরানের ওপর একটি পূর্বপরিকল্পিত মার্কিন সামরিক হামলা শেষ মুহূর্তে বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আপাতত সামরিক আগ্রাসনের চেয়ে আলোচনার টেবিলকেই কিছুটা সময় দিতে চাচ্ছে ওয়াশিংটন, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আল জাজিরা ও টাইমস অব ইসরায়েল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *