১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

তিন অঞ্চলে ক্যাম্পাসকে ভাগ করে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ করার ঘোষণা ছাত্রদলের

বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে তিনটি অঞ্চলে (সবুজ, হলুদ ও লাল) ভাগ করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেল।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনের বটতলায় আসন্ন ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত ইশতেহারে এই অঙ্গীকার করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীবান্ধব নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে মোট ১০ দফা অঙ্গীকার করেছে প্যানেলটি।

সংবাদ সম্মেলনে এই প্যানেলের জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিমের সঞ্চালনায় ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান ইশতেহারের এসব অঙ্গীকার তুলে ধরেন। এ সময় ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদসহ অন্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী, আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে আমরা ১০ দফা ইশতেহার ঘোষণা করছি। আমরা বিশ্বাস করি, এই ইশতেহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মতামত প্রতিফলিত হয়েছে। আমরা নির্বাচিত হলে এগুলো বাস্তবায়নে চেষ্টা করব।’

এই ১০ দফা ইশতেহার হলো—১. শিক্ষা ও গবেষণাকে প্রাধান্য দিয়ে আধুনিক, আনন্দময়, বসবাসযোগ্য ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা। ২. নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস, নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। ৩. শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যবিমা নিশ্চিত করা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা গ্রহণ ও চলাচল সহজতর করা। ৪. কারিকুলাম, অবকাঠামো ও পরীক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গবেষণার মানোন্নয়ন করা। ৫. পরিবহনব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ, ব্যাটারিচালিত শাটল বাস সার্ভিস প্রচলন এবং যাতায়াতব্যবস্থা সহজ করা। ৬. হয়রানিমুক্ত প্রশাসনিক সেবা, শিক্ষাঋণ ও ক্যাম্পাসভিত্তিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। ৭. তরুণদের গঠনমূলক কাজে সম্পৃক্তকরণ এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করা। ৮. শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল–সুবিধা, সাইবার সিকিউরিটি ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধ করা। ৯. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন ও প্রাণীবান্ধব ক্যাম্পাস তৈরি করা। ১০. কার্যকর ডাকসু ও আন্তর্জাতিক পরিসরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা।

সর্বশেষ

আরো সংবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে কয়েক দফায় মেরে পুলিশের হাতে সোর্পদ করার অভিযোগ উঠেছে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর রাতে সেহরির সময় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আমি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহেরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারও খাচ্ছিল। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেছে। পাভেল বলেন, আমার দোষ থাকলে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হোক–আমি তাদের বলেছি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি। পাভেল আরও বলেন, তারা সেখান থেকে মেরে পরে পলাশীতে এনে আবার মারে। আবার সেখান থেকে আমাকে বাইকে করে ভিসি চত্বরে নিয়ে এসে কয়েকজন মিলে কিল-ঘুষি মারে। পরে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে শাহবাগ থানায় ফেলে দিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ আটক করে। তারা আমাকে ছাত্রলীগ বলে পেটায়। আমি কখনো কোন সংগঠনে ছিলাম না। আমার কোনো পদ নেই। মারার পর তারা মোবাইল, মানিব্যাগ ও বাইকের চাবি নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন পাভেল। তিনি যাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছেন, তাদের মধ্যে আছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবরার। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলামকে ফোন করলেও তারা ধরেননি। শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, আজকে সেহরির সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাকে (পাভেল) পুলিশের হাতে সোর্পদ করে। এখন সে আমাদের হেফাজতে আছে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ, এজন্য ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে আগে সুস্থ হোক, তারপর আমরা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের কাছে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমি এ ঘটনা জানার পর সেই ছেলেকে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট দিতে শাহবাগ থানাকে অনুরোধ করেছি। আমরা তার খোঁজ খবর রাখছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।