ইন্দোনেশিয়ার বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (CKG) কর্মসূচি ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ১০ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছেছে বলে বুধবার জানিয়েছেন দেশটির সরকারি যোগাযোগ সংস্থা (Bakom)-এর প্রধান মুহাম্মদ কোদারি।
জাকার্তায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ২০২৫ সালে এই কর্মসূচির আওতায় ৭ কোটি মানুষ সেবা পেয়েছেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে আরও ৩ কোটি মানুষ এতে যুক্ত হওয়ায় মোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এখন ১০ কোটিতে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, এই সংখ্যা ইন্দোনেশিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, যা প্রায় ২৯ কোটি।
সমগ্র জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে সরকার কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। ইতোমধ্যে দেশের ৫১৪টি জেলা ও শহরের ১০ হাজারেরও বেশি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (পুস্কেসমাস) এটি বাস্তবায়িত হয়েছে।
স্কুলগামী শিশুদের ক্ষেত্রে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ মে পর্যন্ত ৪৮ হাজার স্কুলে ৪৮ লাখ শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।
পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ শিশুর দাঁতে ক্ষয় রয়েছে, ২২.১ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এবং ৮.৬ শতাংশের কানে অতিরিক্ত ময়লা জমার সমস্যা রয়েছে।
কোদারি আরও জানান, ১০ কোটি অংশগ্রহণকারীর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ মানুষের পরবর্তী চিকিৎসা প্রয়োজন হয়েছে, যার মধ্যে ১৪ লাখ ইতোমধ্যে চিকিৎসা পেয়েছেন।
১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্করা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ—৬০ শতাংশ। আর ৭ থেকে ১৮ বছর বয়সী স্কুলগামী শিশুদের অংশ ১৬ শতাংশ।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ২০২৫ সালের শুরুতে চালু হওয়া CKG কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ, যাতে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া যায়।
এই কর্মসূচি এমন মানুষদের কাছেও পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, যাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বা সুযোগ কম।
স্কুলগুলোতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের শিশুসহ সকল শিশুর জন্য মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
“CKG-এর মাধ্যমে সরকার শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য তথ্য আরও সুসংগঠিতভাবে সংগ্রহ করতে পারছে। এই তথ্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ নিতে সহায়তা করবে,” বলেন কোদারি।
তিনি আরও যোগ করেন, এই উদ্যোগ দেশের সীমান্তবর্তী, দুর্গম ও অনগ্রসর অঞ্চলেও পৌঁছাতে কাজ করছে, যাতে কোনো শিশু পিছিয়ে না পড়ে।
“এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার শুধু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিচ্ছে না, বরং ভবিষ্যতের জন্য সুস্থ ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদ গড়ে তুলছে,” তিনি বলেন।