নারীদের পৃথক ‘গোলাপি বাস’ সার্ভিস: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের ঝড়
সড়ক ও গণপরিবহনে নারীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু করা বিশেষ ‘গোলাপি বাস’ সার্ভিস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নারী চালক ও সহকারীদের পরিচালনায় চালু হওয়া এই উদ্যোগকে একদল স্বাগত জানালেও, অপর অংশ এটি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উদ্যোগে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়া রুটে সম্প্রতি মোট ১৪টি বাস চালু করা হয়। এসব বাসের বাহ্যিক রং এবং কর্মীদের পোশাক গোলাপি হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে এটি ‘পিংক বাস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
তবে সার্ভিসটি চালুর পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভিন্নমুখী মত প্রকাশ পেতে শুরু করে। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষেরা মনে করছেন, ব্যস্ত গণপরিবহনে নারীদের হয়রানি এড়াতে ও তাদের স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপে নতুন এক সুযোগ তৈরি হলো।
অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, আলাদা বাস চালু করা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। এতে নারীদের মূলধারার গণপরিবহন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার মানসিকতা ফুটে ওঠে, যা পরোক্ষভাবে পুরুষতান্ত্রিকতাকে উৎসাহিত করতে পারে। অনেক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, সার্বিক পাবলিক বাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে নারীদের আলাদা করে দিলে তাদের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিসর আরও সংকুচিত হবে।
এছাড়া সম্প্রতি এক নারী চালকের যানবাহন পরিচালনার দক্ষতা নিয়ে একটি খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়েও বিতর্ক উসকে ওঠে। যদিও ওই খবরের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে শতভাগ নিশ্চিত করা যায়নি, তবুও একশ্রেণির ব্যবহারকারী নারী চালকদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সব মিলিয়ে, নারীদের জন্য এই বিশেষ পরিবহনের সিদ্ধান্তটিকে কেন্দ্র করে নেটদুনিয়ায় এখন নারী সুরক্ষা, সমঅধিকার ও ব্যবস্থার কার্যকরিতা নিয়ে যুক্তিতর্ক চরম রূপ নিয়েছে।