মার্কিন আক্রমণের শঙ্কায় সামরিক প্রস্তুতি কানাডার, সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত কার্নির
প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে সম্ভাব্য কোনো আগ্রাসনের ঝুঁকি উড়িয়ে দিচ্ছে না কানাডা। অতীতে যা কল্পনাতীত ছিল, সেই মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে আগাম প্রতিরক্ষা কৌশল ও প্রস্তুতি গুটিয়ে আনছে অটোয়া। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন, ওয়াশিংটনের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নাটকীয় মোড় পরিবর্তন কানাডাকে সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হতে বাধ্য করছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন ক্ষমতার মসনদে ফেরার পর থেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতিতে কঠোর শুল্ক আরোপের পাশাপাশি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ বানানোর বিতর্কিত মন্তব্য করে আসছেন। এসব অব্যাহত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখেই অটোয়া নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী কার্নি এবং সামরিক বিশ্লেষকরা একযোগে জোর দিয়ে বলছেন, দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের বাস্তব সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায়। তবুও পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতিতে নিজেদের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও কৌশলগত নিরাপত্তা জোরদারকে ‘ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’ হিসেবে দেখছেন কানাডার নীতি নির্ধারকরা।
কানাডীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কিছু আন্তর্জাতিক পদক্ষেপকে। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটকের ঘটনার পর কানাডার সাধারণ নাগরিকদের একাংশের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, অন্তত ৩০ শতাংশ কানাডীয় নাগরিক মনে করেন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো সময় সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা দীর্ঘদিন ধরে যৌথ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের আওতায় কাজ করে আসছে, যা তাদের নিরাপত্তা কাঠামোর গভীর ঘনিষ্ঠতাকে নির্দেশ করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বার্তা দিয়ে হোয়াইট হাউস থেকেও জানানো হয়েছে, উত্তর আমেরিকার নিরাপত্তা ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসন সদা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, দীর্ঘদিনের বন্ধু রাষ্ট্রের এমন অপ্রত্যাশিত মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান উত্তর আমেরিকার রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।