৫ আগস্টের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়, অন্যায়ের বিচার হবে তবে অবিচার নয়: প্রধানমন্ত্রী

July 4, 2026 Times Asian24
PM00 6a48c42490d93
Share: Facebook X WhatsApp

কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির একক প্রচেষ্টায় ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক সফলতা আসেনি, বরং এটি দেশের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অর্জনের ফসল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ মর্যাদায় মূল্যায়ন করবে এবং দেশের মাটিতে প্রতিটি অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।

​শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।

​অন্যায়কারীদের বিচার হবে, তবে অবিচার নয়

​সম্মেলনে দেওয়া আবেগঘন বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে মহৎ লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে, সেই জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি অপরাধী ও হত্যাকারীর বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, বিচারের নামে যেন কোনো নাগরিকের প্রতি নতুন করে কোনো অবিচার বা জুলুম না হয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

​প্রতিহিংসা নয়, সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান

​বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক নিপীড়ন ও পারিবারিক দুঃখ-কষ্টের স্মৃতি চারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আজ যদি আমি আমার প্রয়াত মাকে (সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া) কিংবা আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম যে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আমাদের ওপর যে নির্মম জুলুম, অন্যায় ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, আমরা কি তার প্রতিশোধ নেব? আমি নিশ্চিত, তারা বলতেন— প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধ নয়, তোমার মূল দায়িত্ব হলো দেশের সব মানুষকে সাথে নিয়ে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “১৭ বছর আগে যাদের আমি সহকর্মী হিসেবে পাশে পেয়েছিলাম, তাদের অনেকেই আজ বেঁচে নেই। কেউ কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এই শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা আমিও গভীরভাবে অনুভব করি। কিন্তু আমাদের ব্যক্তিগত ক্ষোভের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করতে হবে।”

​বিভাজনের রাজনীতি থেকে মুক্তির ডাক

​জাতীয় ঐক্যের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা জাতিকে আর কোনোভাবে দ্বিধাবিভক্ত দেখতে চাই না। বিভাজনের রাজনীতি কখনো দেশের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং জনগণের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন করা। কোনো অপশক্তি যেন আগামী দিনে বাংলাদেশের এই পুনর্গঠন ও অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিককে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।”​উক্ত জাতীয় সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ব্যক্তিবর্গ এবং বিশিষ্ট নাগরিকেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালে শহীদদের স্মরণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *