ইসলামী ব্যাংক পেল ১৩ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা

June 30, 2026 Times Asian24
5 20260614082650
Share: Facebook X WhatsApp

দেশের অন্যতম শীর্ষ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশকে তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠতে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিশেষ সহায়তার অংশ হিসেবে ব্যাংকটিকে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

​মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি (মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট) ঘোষণার সময় এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর এই তথ্য প্রকাশ করেন।

​দেশের ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং চলমান সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গভর্নর বিগত ও বর্তমান সরকারের আমলের তারল্য সহায়তার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকগুলোকে মোট ১৭ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। বিপরীতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোকে চাঙ্গা করতে ৫১ হাজার কোটি টাকা বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে।”

​নীতি সুদহার অপরিবর্তিত, বেসরকারি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা হ্রাস

​এদিকে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য কঠোর সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই নীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আগের চেয়ে কমিয়ে ৬.৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নীতি সুদহার (রেপো রেট) ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যা বাজারে ঋণের সুদের হার উচ্চ পর্যায়েই ধরে রাখবে।

​অন্যদিকে, বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৭ শতাংশ।

​লক্ষ্য অর্জন নিয়ে সংশয়

​কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত মে মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৫ শতাংশ। অথচ বিদায়ী ষাণ্মাসিকে (জানুয়ারি-জুন) এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮.৫ শতাংশ, যা বছরের কোনো মাসেই অর্জিত হতে পারেনি।

অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, নীতি সুদহার ১০ শতাংশে রেখে অর্থাৎ ঋণের খরচ চড়া রেখে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬.৮ শতাংশে উন্নীত করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। উচ্চ সুদের কারণে ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে কতটা আগ্রহী হবেন, তা নিয়ে ব্যাংক খাতে এক ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।

মুদ্রানীতির লক্ষ্য: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি সচল রাখার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখাই এই মুদ্রানীতির মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ এবং বৈদেশিক সম্পদের সম্ভাব্য পরিবর্তনের একটি সামগ্রিক রূপরেখা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *