১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ইন্দোনেশিয়ান নৌবাহিনী দেশের প্রথম সাবমেরিন উদ্ধারকারী জাহাজকে স্বাগত জানিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ান নৌবাহিনী সোমবার জাকার্তায় মিলিটারি সিবোর্ন কমান্ড (কোলিনলামিল) জেটিতে ইন্দোনেশিয়ার প্রথম সাবমেরিন উদ্ধারকারী জাহাজ কেআরআই ক্যানোপাস-৯৩৬-কে স্বাগত জানিয়েছে।
জাহাজটির আগমন উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডনি এরমাওয়ান তাউফান্তো, টিএনআই কমান্ডার জেনারেল আগুস সুবিয়ান্তো, নৌবাহিনীর চিফ অব স্টাফ মুহাম্মদ আলি এবং নৌবাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তারা।
এক সংবাদ সম্মেলনে আলি বলেন, “এই জাহাজটি আমাদের প্রথম সাবমেরিন উদ্ধারকারী জাহাজ।”
আলি জানান, কেআরআই ক্যানোপাস-৯৩৬ জাহাজটি জার্মান জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Abeking & Rasmussen এবং PT Palindo Marine-এর যৌথ সহযোগিতায় তৈরি হয়েছে, যার ৬০ শতাংশ উপাদান দেশীয়।
তার মতে, জাহাজটিতে হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে লঞ্চার (HSL), অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (AUV), রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল (ROV), অটোনোমাস সারফেস ভেহিকল (ASV) এবং আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (UAV)-সহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি সংযুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, “এই সরঞ্জামগুলো হাইড্রোগ্রাফিক, মহাসাগরীয় ও ভূ-ভৌতিক জরিপ এবং সমুদ্রতলের বিস্তারিত মানচিত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হবে।”
পানির নিচের এলাকা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি, জাহাজটি সামরিক কার্যক্রমেও সক্ষম। এর মধ্যে রয়েছে সাবমেরিন চলাচলের রুট ম্যাপিং, সমুদ্রের মাইন শনাক্তকরণ, নিরাপত্তা টহল এবং সামুদ্রিক গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান।
আলি আরও জানান, কেআরআই ক্যানোপাস-৯৩৬ পানির নিচে অনুসন্ধান ও উদ্ধার (SAR) অভিযান পরিচালনায়ও সক্ষম। এটি বিপদ সংকেত শনাক্ত করা এবং সমুদ্রতলে থাকা বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করতে পারে।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নৌবাহিনী দুর্ঘটনাগ্রস্ত সাবমেরিন বা সমুদ্রে ডুবে যাওয়া জাহাজ খুঁজে বের করতে পারবে।জাহাজটি শুধু উন্নত প্রযুক্তিতেই সজ্জিত নয়, বরং এতে থাকা সব সিস্টেম পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত জনবলও রয়েছে। কেআরআই ক্যানোপাস-৯৩৬-এ ৯৩ জন সদস্য কাজ করবেন, যারা সাত মাসের হাইড্রোগ্রাফিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
আলি বলেন, “তারা জার্মানিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এর আগে ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়াতেও তারা প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। আমাদের ইতোমধ্যে একটি হাইড্রোগ্রাফিক স্কুল রয়েছে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, কেআরআই ক্যানোপাস-৯৩৬-এর মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ান নৌবাহিনী আরও কার্যকরভাবে পানির নিচের নজরদারি ও সামুদ্রিক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।

 

সূএ:আনতারা

সর্বশেষ