৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

২৫ লাখ টাকার জন্য ভিডিও কলে কাটা হলো আঙুল

নবীগঞ্জের রায়হান চৌধুরী নামে এক যুবককে ইতালি পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় আটকে রেখে ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরও ছেড়ে দেওয়া হয়নি। আরও ২৫ লাখ টাকার জন্য মারপিট করে ভিডিও কলে হাতের আঙুল কেটে দিয়ে বলছে- হাতের কবজি কাটা হবে।

এখন নির্যাতন করার পর গত ৪২ দিন ধরে রায়হান চৌধুরী (৩০) নিখোঁজ রয়েছেন- এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা।

বিদেশে পাঠানোর ওই দালাল চক্রের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন- এমন অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

বৃহস্পতিবার মামলার প্রধান আসামি গোপনে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বেতাপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের চৌধুরী বাদী হয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি নবীগঞ্জ থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে বাদী তার ছেলে রায়হান চৌধুরীর সহপাঠীর সূত্র ধরে মোবাইলে ইতালি থেকে দালাল ও মানবপাচার চক্রের সদস্য শামীম ও তার সহযোগী রাগিব ফ্রি ভিসায় ইতালি নেওয়ার কথা বলে প্রলুব্ধ করেন। তাদের প্রলোভনে ইতালি যাওয়ার জন্য সম্মত হয়ে বাদী তাদের পাসপোর্ট দেয়।

এর কয়েক দিন পর মানবপাচার চক্রের সদস্য শামীমের বাবা নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী হাসেনা বেগম, মেয়ে রিনু বেগম, শান্তা বেগম, রুবিনা বেগম তার বাড়িতে এসে বাদীকে জানায়- ভিসা হয়েছে।

তাদের কথামতো গত ১২ সেপ্টেম্বর বাদী তাদের ১০ লাখ টাকা প্রদান করেন। এর কিছুদিন পরে বাদীর ছেলে রায়হান চৌধুরীর পাসপোর্ট দেওয়ার সময় দালাল রাকিবের বাড়িতে গিয়ে আরও নগদ ২ লাখ টাকা প্রদান করেন। টাকা পাওয়ার পর মানবপাচার চক্রের সদস্যরা ভিকটিম রায়হান চৌধুরীকে প্রথমে ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব ও পরে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য শামীম ও রাকিব মিলে রায়হান চৌধুরীকে ইতালি না পাঠিয়ে জিম্মি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে।

তারা রায়হান চৌধুরীর মা-বাবাসহ আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে জানায়, বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাইলে কিংবা ইতালি যেতে চাইলে দেশে থাকা তাদের সদস্য নজরুল ইসলামের কাছে আরও ১৫ লাখ টাকা দিতে হবে। রায়হান চৌধুরীকে মারপিট করে ভিডিও কলে দেখায়। তার একটি আঙ্গুল কেটে দিয়ে বলে তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে হাতের কবজি কেটে দিবে। তাই বাধ্য হয়ে ভিকটিমের বাবা জমি ও সোনা বিক্রি করে ১৫ লাখ টাকা দেশে থাকা পাচারকারী চক্রের সদস্যদের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ও বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করেন। তারা মোট ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাওয়ার পরও তারা ভিকটিমকে দেশে বা ইতালি পাঠায়নি।

এখন আবারও রায়হান চৌধুরীকে মারপিট করে ভিডিও কলে দেখিয়ে আরও ২৫ লাখ দাবি করলে তার বাবা নিরুপায় হয়ে নবীগঞ্জ থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে ইতালিতে রায়হান চৌধুরী নিখোঁজ রয়েছেন। দালাল চক্র কোথায় রাখছে কোনো খরব পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে মামলার বাদী আবু তাহের চৌধুরী বলেন, আমি মামলা করে বিপাকে পড়েছি। আমি এখন আমার ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। সে কোথায় কিভাবে আছে আল্লাহ ভালো জানেন। আমার ছেলে রায়হান চৌধুরীকে মারপিট করে ভিডিও কলে দেখায়। তার একটি আঙুল কেটে দিয়ে বলে তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে হাতের কবজি কেটে দিবে। এখন ৪২ দিন ধরে সে নিখোঁজ রয়েছে। আমাকে মামলা তোলার জন্য ও জেলহাজতে থাকা প্রধান আসামি নজরুল ইসলামকে জামিনে নিয়ে আসার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।

এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, মামলাটি কিছুদিন আগে অধিকতর তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সিআইডির কাছে প্রেরণ করেছি। এখন বিষয়টি সিআইডি তদন্ত করবে।

সর্বশেষ