বরফ গলছে কূটনীতিতে: সুইজারল্যান্ডে মুখোমুখি ট্রাম্প-আয়াতুল্লাহর প্রতিনিধি!

June 21, 2026 Times Asian24
DailyApanDesh 9 2606211204
Share: Facebook X WhatsApp

দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সাম্প্রতিক চরম উত্তেজনা কাটিয়ে অবশেষে সুইজারল্যান্ডের মাটিতে মুখোমুখি বসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। কাতার এবং পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় দেশ দুটির মধ্যে এই হাই-ভোল্টেজ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

​কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো উভয় দেশের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী চুক্তি সম্পন্ন করা। পূর্ববর্তী সমঝোতা স্মারকে (MoU) উল্লেখ থাকা সব বিষয়কে এবারের চূড়ান্ত চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

​কূটনীতির টেবিলে সুইজারল্যান্ড ও ইরান

​মূল আলোচনা শুরুর আগে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিসের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) বৈঠকের একটি ছবিও শেয়ার করেন ইরানি মন্ত্রী।

​বৈঠক প্রসঙ্গে সুইস পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাসিস জানান, নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সুইজারল্যান্ড ও ইরানের মধ্যে একটি গভীর বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এই সুসম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি, নিরাপত্তা এবং কূটনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

​গঠিত হয়েছে ‘ফলো-আপ’ গ্রুপ

​আলোচনা সফল করতে এবং এর অগ্রগতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ ‘ফলো-আপ’ গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এই গ্রুপটি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের তদারকি করবে এবং চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে।

​কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে সব পক্ষই যথেষ্ট আন্তরিক। যেকোনো সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতিই যে একমাত্র পথ, কাতার তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে পাকিস্তানসহ অন্য অংশীদারদের সঙ্গে কাতার কাজ করে যাচ্ছে।

​কেন পিছিয়ে গিয়েছিল বৈঠক?

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকটি আরও আগেই শুরু হওয়ার কথা ছিল। গত বুধবার (১৭ জুন) ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর শুক্রবারই সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর দিন ধার্য ছিল। কিন্তু লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধের নাটকীয় ঘোষণার পর পুরো প্রক্রিয়াটি থমকে যায়।

ইরানের অবস্থান:

তেহরানের অভিযোগ, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান মূলত ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া চুক্তির শর্ত ও স্পিরিটের পরিপন্থী। এর প্রতিবাদেই তারা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

 

​ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত খাতাম-আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পাল্টা জবাব হিসেবেই প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

​তবে সমস্ত সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছাপিয়ে অবশেষে দুই দেশের টেবিলে ফেরা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *